স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নার্সরাই ফার্মাসিস্টের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন

122

বরুণ মজুমদার, ডালখোলা : সরকারি হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট না থাকায় হাসপাতালের নার্সরাই ফার্মাসিস্টের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এমন ঘটনা গ্রামীণ এলাকার কোনও হাসপাতালে নয়, খোদ পুরসভা এলাকায় ঘটেছে।দীর্ঘদিন ধরেই ডালখোলা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ফার্মাসিস্ট ছাড়াই চলছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছেন মাত্র দুজন চিকিৎসক। তাঁরা পালা করে রোগী দেখে হাতে ধরিয়ে দেন প্রেসক্রিপশন। তারপর রোগী ওষুধ নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ান। অপরপ্রান্ত থেকে ফার্মাসিস্টের পরিবর্তে নার্সরাই রোগীকে ওষুধ দেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নার্স কৃতিকা অধিকারীশর্মা বলেন, ফার্মাসিস্ট না থাকায় আমরাই চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ দিই। তাঁর কথায় সায় জানান অপর নার্স মেঘা প্রধানও। স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ সরকার  বলেন, ডালখোলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আউটডোর বিভাগে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসেন। এখানে কোনও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। সমস্যা হলে মানুষজনকে রায়গঞ্জ, পূর্ণিয়া, শিলিগুড়ি যেতে হচ্ছে। একই কথা জানিয়েছেন অপর বাসিন্দা কামরুজ্জামান, বীথিকা বিশ্বাস প্রমুখ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক অমলকান্তি বিশ্বাস বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ৩ জন নার্স, ৪ জন প্রশিক্ষণরত নার্স এবং ৭ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়ে চলছে। এছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনও অ্যাম্বুল্যান্সও নেই। তবে ফার্মাসিস্ট না থাকার বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে জানানো হয়েছে।

ডালখোলায় অনুন্নত চিকিত্সা ব্যবস্থার অভিযোগ তুলে সিপিএমের কৃষকসভার জেলা সম্পাদক সুরজিত্ কর্মকার বলেন, ডালখোলা নামেই পুরসভা। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের যেমন জরাজীর্ণ অবস্থা, তেমনই নেই কোনও বিশেষজ্ঞ, নেই অ্যাম্বুল্যান্স। ডালখোলা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসূতি বিশেষজ্ঞ না থাকায় এখানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবও করানো যাচ্ছে না। অথচ দুয়ারে সরকার চলছে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য মানুষ লম্বা লাইন দিচ্ছেন। রায়গঞ্জের প্রাক্তন সাংসদ মহম্মদ সেলিম সাংসদ তহবিল থেকে ২৫ লক্ষ টাকা ডালখোলা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ করার পরও জেলা প্রশাসন তা কাজে লাগায়নি বলে তাঁর অভিযোগ। এ ব্যাপারে জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক রমেশ ভগত বলেন, ডালখোলা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দেওয়ালে গাছ গজিয়েছে। বর্ষায় ছাদ দিয়ে জল চুইয়ে পড়ে। যখন-তখন ছাদের চাঙড় খসে পড়ছে। অথচ স্বাস্থ্য দপ্তরের কোনও হেলদোল নেই। ডালখোলার প্রবীণ তৃণমূল নেতা শ্যামল বাগল বলেন, ডালখোলা পুরসভা এলাকা হলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নিজস্ব অ্যাম্বুল্যান্স নেই। এটা ডালখোলার রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতা। তাই ডালখোলাবাসীর মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার বঞ্চনা নিয়ে ক্ষোভ জমছে। ডালখোলা পুরসভার যুগ্ম প্রশাসক সুভাষ গোস্বামী বলেন, এ বিষয়ে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া পুরবাসীদের জন্য অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। ২০১৩ সালে ডালখোলা পুরসভার নির্বাচনের আগে তৎকালীন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় ডালখোলা থানা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে পিপিপি মডেলের হাসপাতালে রূপান্তরের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ডালখোলা থানার বাস্তবায়ন হলেও দীর্ঘ সাত বছরে হাসপাতালের কাজ এক ইঞ্চিও এগোয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

- Advertisement -