নিরাপত্তার দাবিতে হাসপাতালের নার্সদের অবস্থান বিক্ষোভ

394

সামসী: দিন দিন বেড়ে চলেছে উত্তর মালদায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। চিকিৎসক, নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও করোনার কোপ থেকে বাদ পড়ছেন না। গত দু’দিনে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি ও সামসী গ্রামীণ হাসপাতালে প্রায় ১৮ জন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে করোনার সংক্রমণ মিলেছে। করোনা আক্রান্তের মধ্যে সামসী গ্রামীণ হাসপাতালের একজন চিকিৎসকও রয়েছেন।

যাঁরা দিবারাত্রি রোগীদের পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন অথচ তাঁদেরই নিরাপত্তা নেই, এনিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে ফার্মাসিস্ট, নার্স ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা। সোমবার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা দিল চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। এদিন দুপুরে ওই হাসপাতাল সুপারের দপ্তরের সামনে অধিকাংশই নার্স নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হন। প্রায় ঘণ্টাখানেক বিভিন্ন দাবি দাওয়া সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।

- Advertisement -

চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে অবস্থান বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী নার্সদের বক্তব্য, ‘আমরা বাঁচাতে চাই, বাচঁতেও চাই। কিন্তু যেভাবে হাসপাতাল কর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে করে আমরা যথেষ্ট নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ এতে তাঁদের পরিবার পরিজনরাও চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বলে জানান তাঁরা।

এদিন অবস্থান বিক্ষোভে শামিল নার্সরা তাঁদের দাবি হাসপাতাল সুপারকে জানিয়ে বলেন, ‘হাসপাতালে কর্মরত প্রত্যেকের কোভিড-১৯ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। পর্যাপ্ত পিপিই কিট এবং মাস্কের ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতাল কর্মীদের জন্য আলাদা কোয়ারান্টিন খোলার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও পুরো হাসপাতালের সমস্ত বিভাগ প্রপার স্যানিটাইজ করতে হবে। প্রয়োজনে এক-দু’দিন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখতে হবে স্যানিটাইজের জন্য। নার্সরা জানান, তাঁদের দাবিগুলি না মানলে পরবর্তীতে আরও বড় ধরনের আন্দোলনে নামবেন বলে হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।

চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপারকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে চাঁচল-১ এর বিএমওএইচ ডাঃ আখতার হোসেন জানিয়েছেন, তাঁদের দাবিগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আরও কিছু মাস্ক, পিপিই কিট এবং অন্যান্য সরঞ্জামের জন্য সিএমওএইচ সাহেবকে জানানো হয়েছে। কাল-পরশুর মধ্যেই সব চলে আসবে।