দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খাবারের গুণগতমান পরীক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন ওয়ার্ডের নার্সিং ইন চার্জ এবং ওয়ার্ড মাস্টার। বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল ও সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে এভাবেই কাজ চলছে। শুধু তাই নয়, দুপুরের পর ভরতি হওয়া রোগীদের অ্যাডমিশন ডায়েট দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ। একজন ডায়েটিশিয়ানের কাজ কীভাবে একজন নার্সিং স্টাফ করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও হাসপাতাল কর্তপক্ষের দাবি, সমস্ত কাজ নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে হাসপাতালে একজন ডায়েটিশিয়ান ছিলেন। রোগীদের ডায়েট চার্ট তৈরির পাশাপাশি অন্য যাবতীয় কাজ তিনিই সামলাতেন। এমনকি খাবারের গুণগতমানও তিনিই পরীক্ষা করতেন। তাঁর ছাড়পত্র পাওয়ার পরই খাবার হাসপাতালের ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হত। চলতি বছরের প্রথমদিকে তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু সেই পদে কাউকে নিযোগ করা হয়নি। যার ফলে এই বিভাগের কাজকর্ম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, অধিকাংশ দিন খাবার পরীক্ষা না করেই ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নার্সিং ইন চার্জ বা ওয়ার্ড মাস্টার কোনোরকমে সেই খাবার পরীক্ষা করেন। তারপর রোগীদের খাবার দেওয়া হয়। বিষয়টি অনেকটা পরীক্ষা না দিয়ে পাস করার মতো। তাঁর দাবি, যার যেটা কাজ নয়, তাকে দিয়ে সেই কাজ করানো হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কোনোদিন বড়ো বিপদ ঘটতে পারে। এদিকে, রোগীদের খাবার সরবরাহের দাযিত্বে থাকা সংস্থার বিরুদ্ধে সরকারি তালিকা না মানার অভিযোগও উঠেছে। সরকারি তালিকায় অ্যাডমিশন ডায়েট বলে একটি ডায়েটের উল্লেখ থাকলেও রোগীদের তা দেওয়া হয় না বলেই অভিযোগ। এক স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, দুপুরের পরে হাসপাতালে ভরতি হওয়া রোগীদের মধ্যে যাঁরা খাওয়ার মতো অবস্থায় থাকেন, তাঁদের অ্যাডমিশন ডায়েট দেওয়ার কথা। পরবর্তীতে রাতে তাঁরা ফুল ডায়েট পাবেন। কিন্তু তাঁদের অ্যাডমিশন ডায়েট না দিয়ে পুরোটাই ফুল ডায়েট দেখানো হচ্ছে। সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভরতি থাকা অনেক রোগী ও তাঁদের পরিজনরা এই অভিযোগ জানিয়েছেন। সত্যজিৎ সরকার নামে এক ব্যক্তি বলেন, সম্প্রতি অসুস্থ হওয়ায় বাবাকে হাসপাতালে ভরতি করি। দুপুরের পর ভরতি হলেও বাবাকে অ্যাডমিশন ডায়েট দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে অবশ্য সকাল, দুপুর ও রাতের ডায়েট দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে ডায়েিশিয়ানদের বক্তব্য, হাসপাতালে চিকিত্সাধীন এক-একজন রোগীর ডায়েট এক-এক রকম। ডায়াবিটিসে আক্রান্তদের ডায়েটের সঙ্গে কিডনির রোগীদের ডায়েটের মিল নেই। কিডনির সমস্যা হলে রোগীকে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দেওয়া যায় না। আবার ডায়ারিয়া বা অন্য পেটের রোগের ক্ষেত্রে হালকা খাবার দিতে হয়। খাবারে সামান্য তারতম্য হলে রোগীর বড়ো সমস্যা হতে পারে। এজন্য একজন ডায়েটিশিয়ানের নজরদারি প্রযোজন। তবে খাবার সরবরাহের বরাত পাওয়া সংস্থার কর্ণধার শুভময় সাহা বলেন, সমস্ত রোগীকে নিয়ম অনুসারে খাবার দেওয়া হয়। প্রতিদিন খাবারের গুণগতমান পরীক্ষা করা হয়। আমরা ওয়ার্ডের থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে খাবার সরবরাহ করি। এছাড়া অ্যাডমিশন ডায়েটও দেওয়া হয়। একই সুরে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের সুপার গয়ারাম নস্কর বলেন, সমস্ত কিছু নিয়ম অনুসারে চলছে। তবে হাসপাতালে ডায়েটিশিয়ান দেওয়া হলে ভালো হয়।