অপুষ্টি রুখতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পুষ্টি বাগান

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : চা বাগান ও গ্রামাঞ্চলে চিহ্নিত করা শিশু ও মায়েদের অপুষ্টি দূর করতে পুষ্টি বাগান তৈরি করবে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প বিভাগ। জেলায় মাঝারি ও অতি অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত প্রায় ছহাজার শিশু ও মায়েদের বাড়ির জমিতে এবং চিহ্নিত আইসিডিএস কেন্দ্রে এই পুষ্টি বাগান তৈরি হবে। জেলায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সংখ্যা ৩,৯৩৬টি। কিন্তু সবকটি কেন্দ্রের অধীনে মাঝারি ও অতি অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও মায়েরা নেই। গতবছর আইসিডিএস এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের সহযোগিতায় জেলায় ১,৯৬৭টি কেন্দ্রকে চিহ্নিত করা হয়। যেখানে সদ্যোজাত থেকে ৬ বছর বয়সি মাঝারি ও অতি অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ৫,৮৮৪ জন। জানা গিয়েছে, মূলত জেলার চা বাগান অধ্যুষিত মাল, নাগরাকাটা, মেটেলি ও ধূপগুড়ি ব্লকে এই শিশুদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

মাল ব্লকে অতি অপুষ্টি এবং মাঝারি অপুষ্টি মিলিয়ে শিশুর সংখ্যা ৬৯০, নাগরাকাটায় ৫৯০, মেটেলিতে তিন শতাধিক, ধূপগুড়ি ব্লকে দেড় হাজার জনের কিছু বেশি। অপুষ্টিতে আক্রান্ত ছহাজার শিশুর মধ্যে মাঝারি অপুষ্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫,৬০০ এবং অতি অপুষ্টিতে আক্রান্ত ৪০০ জন। যদিও পুরসভাগুলি পুষ্টি বাগানের আওতার বাইরে থাকছে। এই মাঝারি ও অতি অপুষ্টিজনিত আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই ডুয়ার্সের চা বাগানে বসবাস করেন। জেলার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নোডাল অফিসার সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, যে সব আইসিডিএস কেন্দ্রের ভেতর ফাঁকা জমি আছে বা সুরক্ষিত কেন্দ্রে পুষ্টি বাগান করা হবে। তাছাড়া ছহাজার মাঝারি ও অতি অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর বাড়ির ফাঁকা জমিতে পুষ্টি বাগান করা হবে। এক একটি বাগানের জন্য ৪০০ বর্গমিটার জমি প্রয়োজন। প্রত্যেকটি বাগানের জন্য ১০ হাজার টাকা করে খরচ করা হবে। পুষ্টি বাগানে আম, লেবু, কলা, কামরাঙা, সজনে, নারকেল, কুল, চালতা, নিম এই ধরনের ১৫ প্রজাতির গাছ লাগানো হবে। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের থেকে এই প্রকল্প রূপায়ণে ১৩ দিনের শ্রমদিবস, সার এবং আর্থিক সাহায্য করা হবে। তবে এই প্রকল্পে শাকসবজি রোপণ করার নিয়ম নেই। পুষ্টি বাগান একটু বড় হলে সেখানে কৃষি দপ্তর থেকে ব্লকের মাধ্যমে পাওয়া শাকসবজির চারা, বীজ রোপণ করা যাবে। তিনি বলেন, এই গাছগুলি বড় হলে শিশুদের মালিকানায় থাকবে।

- Advertisement -

আইসিডিএস-এর জেলা প্রকল্প আধিকারিক ধনপতি বর্মন জানান, আমরা গতবছর স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে মেডিকেল ক্যাম্প করে এই মাঝারি ও অতি পুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর তালিকা তৈরি করেছি। অনেকেই সুস্থ হয়েছে। কিন্তু ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের মাধ্যমে এই পুষ্টি বাগান তৈরি হলে অপুষ্টি দূর করতে সাহায্য করবে। জেলা শাসক অভিষেক তিওয়ারি জানান, এই পুষ্টি বাগানের উদ্যোগ জেলায় অভিনব। জলপাইগুড়ি জেলার সাত বিডিওকে চিঠি দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। কোন শিশুর বাড়িতে ফাঁকা জমি কত আছে, আইসিডিএস কেন্দ্রেও ফাঁকা জমি কী পরিমাণ আছে, সেই জমি ঘেরা দেওয়া কি না তা জানা হবে। সুরক্ষিত অবস্থায় থাকলে প্রকল্প রূপায়ণ করতে এবং গাছগুলি বাঁচাতে সুবিধা হবে।