টিকিট না পেয়ে তৃণমূল ছাড়লেন অম্লান

123

বৈষ্ণবনগর: বিধানসভা ভোটের টিকিট না পেয়ে দল ছাড়লেন তৃণমূলের মালদা জেলা কো-অর্ডিনেটর অম্লান ভাদুড়ি। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন এবং সেখানেই দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন অম্লানবাবু। তিনি জানান, তৃণমূলে থেকে আর কাজ করা যাচ্ছিল না। দলের জেলা নেতৃত্বদের মধ্যে কোন সমন্নয় নেয় তাই বাধ্য হয়ে দল ছাড়লেন মালদা জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর অম্লান ভাদুড়ি। তবে এই মুহূর্তে অন্য কোন দলে যোগদান করছেন না। এমনকি মানুষের কাজ করতে চান তিনি। তাই নিজের সমর্থক থেকে হৃদআখাঙ্খীদের সাথে কথা বলে আগামি সিধান্ত নিবেন। রবিবার সন্ধ্যায় নিজের বাসভবনে এক সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের দল ছাড়ার কথা জানালেন। দল ছাড়ার বিষয়টি লিখিতভাবে তিনি দলের কাছে পাঠিয়েছেন। এমনকি সমস্ত সরকারি পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। এদিন বিক্ষোভ আছড়ে পড়ে বৈষ্ণবনগরে। মালদা জেলা কো-অর্ডিনেটর অম্লান ভাদুরির অনুগামীরা বৈষ্ণবনগরের তৃণমূল প্রার্থী চন্দনা সরকারের প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের দাবি তুলে রবিবার বিকেলে বৈষ্ণবনগরের ১৬ মাইল স্ট্যান্ড এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন, বৈষ্ণবনগর তৃণমূলের সহ-সভাপতি সরিয়াতুল ইসলাম, ব্লক সাধারণ সম্পাদক সোনামুল হক, সেলিম শেখ, চরি অনন্তপুর অঞ্চল সভাপতি মতিউর রহমান, গোলাপগঞ্জ অঞ্চলের তৃণমূলের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক, বীরনগর-২ অঞ্চলের সভাপতি মনু ঘোষ সহ বৈষ্ণবনগরের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন। সেইসঙ্গে প্রায় হাজার দুয়েক তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা এদিনের অবরোধ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -

বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর দাবি, চন্দনা সরকারকে প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করতে হবে। তার জায়গায় জেলা নেতা অম্লান ভাদুরি কে প্রার্থী করতে হবে। এদিন প্রায় আধঘন্টা ধরে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে চন্দনা চন্দনা সরকার ও তার স্বামী পরিতোষ সরকার বাচ্চুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। আধঘন্টা ধরে জাতীয় সড়ক অবরোধ থাকার ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। অবশেষে বৈষ্ণবনগর থানার আইসি নিম শেরিং ভুটিয়ার মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।

গত শুক্রবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন।  বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছে জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি চন্দনা সরকারকে। তারপর থেকেই বৈষ্ণবনগরে শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কারণ বৈষ্ণবনগর প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে অনেকেরই নাম শোনা গিয়েছিল। প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন বৈষ্ণবনগরের ব্লক সভাপতি দুর্গেশ চন্দ্র সরকার,জেলা নেতা অম্লান ভাদুরি ও পরিতোষ সরকারের নাম শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে চন্দনা সরকারকে বৈষ্ণবনগরের প্রার্থী করে দেওয়াই সকলে চমকে ওঠেন। মহিলা প্রার্থী দিয়ে চমক তৈরি করতে চেয়ে ছিলেন রাজ্য নেতৃত্ব। কিন্তু তার ফল বিপরীত হতে চলেছে মনে করছেন শাসকদলেরই নেতৃত্বরা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পরিতোষ সরকার বাচ্চু বিভিন্ন রকম দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। কাঠ মানি খাওয়া থেকে শুরু করে থানার দালালি করা,  তোলাবাজি করা ও ফরাক্কার নতুন সেতু তৈরিতে প্রচুর দুর্নীতি করা সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীরা চন্দনা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। জেলা পরিষদের বিভিন্ন কাজ কর্ম করতে গিয়ে কাটমানি খেয়েছেন চন্দনা সরকার এই অভিযোগ তুলে স্লোগান দেওয়া হয়। চন্দনা হাটাও বৈষ্ণবনগর বাঁচাও বলেও স্লোগান তোলা হয়।

বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা ব্লক কমিটির সহ-সভাপতি সরিয়াতুল ইসলাম অভিযোগ তুলে বলেন, ‘বৈষ্ণবনগরের মানুষ পরিতোষ সরকার বাচ্চু ও তাঁর স্ত্রী চন্দনা সরকারের দুর্নীতির কবলে পড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।মানুষ তাদের বিরুদ্ধে যেখানে সেখানেই কথা বলছেন। কাটমানি খাওয়া থেকে শুরু করে, থানার দালালি করা ও তোলাবাজি সহ বিভিন্ন রকম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে ওই দুজনের বিরুদ্ধে। এমনকি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ও তাদের নাম দেখা গেছে।বৈষ্ণবনগরের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে রয়েছে তাদের জন্য। অথচ প্রশান্ত কিশোরের টিম রাতারাতি কিসের বিনিময়ে চন্দনা সরকারকে প্রার্থী করল। আমরা বুঝে উঠতে পারছি না। আমরা বৈষ্ণবনগরের মানুষ একত্রিত হয়ে এই আসনটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত চন্দনা সরকার কে প্রার্থী করার ফলে এই আসনটি আমরা হারাতে চলেছি।’

এদিন তিনি ববলেন, ‘আমরা চাই চন্দনা সরকারকে প্রার্থী থেকে সরিয়ে দিয়ে। অবিলম্বে অম্লান ভাদুরিকে এখানে প্রার্থী নিযুক্ত করা হোক। তাহলে এখানে আমরা তৃণমূলের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করাতে পারব। চন্দনা সরকারকে কেউ প্রার্থী মানতে রাজি নয়। তাই প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও অঞ্চল সভাপতিরা হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা এখানে উপস্থিত হয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেছেন। যতদিন পর্যন্ত চন্দনা সরকারকে প্রার্থী থেকে না সরানো হয়েছে ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে। প্রতিটি বুথ স্তরে আমরা আন্দোলন করব।’

বীরনগর অঞ্চলের তৃণমূলের প্রধান ও অঞ্চল সভাপতি মনু ঘোষ বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই শুনে আসছি এবং প্রশান্ত কিশোরের টিম ও বলেছিল বৈষ্ণবনগরের প্রার্থী অম্লান ভাদুরিকে করা হবে। কিন্তু হঠাৎ করে চন্দনা সরকারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ চন্দনা সরকার ও তার স্বামী পরিতোষ সরকার বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই মানুষ কোনভাবেই তাদেরকে মেনে নিতে পারছেন না। প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা আজকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।চন্দনা সরকারের প্রার্থী পদ বাতিল করার দাবি তুলেছেন সকলে।’

বৈষ্ণবনগর তৃণমূল প্রার্থীকে জয়যুক্ত করতে হলে অম্লান ভাদুরি এখানে প্রার্থী করতে হবে। এই দাবি তুলেই এদিন জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়েছে।