কলেজ ছাত্রীদের প্রোফাইলে ঢুকে অশ্লীল মন্তব্য! অভিনব সাইবার জালিয়াতি মালদায়

194

মালদা:  অভিনব সাইবার জালিয়াতির শিকার হলেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের একাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টালে  কয়েকজন ছাত্রীর  চতুর্থ সিমেস্টারের পরীক্ষার ফর্মে ঠিকানার জায়গায়  অশ্লীল মন্তব্য লিখে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সাইবার জালিয়াতি করে কিছু ছাত্রীর প্রোফাইলে প্রবেশ করে কেউ বা কারা এই অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য লিখেছে বলে অভিযোগ।

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ পঁচিশটি কলেজে চতুর্থ সিমেস্টারের পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ চলছে। এই পরীক্ষার পর পাশ করলে পুরনো নিয়মে থার্ড ইয়ারে ভর্তি হওয়ার কথা। অভিযোগ, জেলার একটি কলেজের কয়েকজন ছাত্রী ফর্ম আপলোড করতে গিয়ে আকাশ থেকে পড়েন। রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে লগ ইন করার পরে নিজেদের প্রোফাইলে তাঁরা দেখেন ইতিমধ্যেই কেউ বা কারা ঠিকানার জায়গায় অশ্লীল মন্তব্য লিখে ফর্ম আপলোড করে দিয়েছে। এতে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন ছাত্রীরা। রাতেই গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কন্ট্রোলার বিভাগে যোগাযোগ করেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। শনিবার সাইবার ক্রাইম বিভাগ এবং জেলা পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার বিশ্বরূপ সরকার।

- Advertisement -

প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে দুষ্কৃতীরা অন্যের প্রোফাইলে গিয়ে এই কাণ্ড ঘটাতে পারে? বিশ্বরূপ সরকার জানান, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও পরীক্ষা সংক্রান্ত পোর্টালটি পরিচালনা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি সংস্থা। তারাই  রক্ষণাবেক্ষণ করে। চতুর্থ সিমেস্টারের পরীক্ষার জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৯0 শতাংশ আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে। পোর্টালে নিজের প্রোফাইলে প্রবেশ করতে হলে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দিয়ে লগ ইন করতে হয়। আপলোড করার ফর্মে সম্পাদনযোগ্য তিনটি অপশন রয়েছে। প্রথমটি হলো ঠিকানা। ঠিকানায় টেক্সট লেখার সুযোগ রয়েছে। ঠিকানা কারও পরিবর্তন হতেই পারে। এই কারণে এটিতে এডিট করার অপশন রয়েছে। এছাড়া রয়েছে মোবাইল নাম্বার এবং  ইমেল আইডি। ওই ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ঠিকানার জায়গায় অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা লেখা হয়েছে।  তবে ইমেইল আইডি একই রকম রয়েছে। বিষয়টি জানার পরে সেই সমস্ত ছাত্রীদের প্রোফাইল থেকে  আপত্তিকর লেখা মুছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁদেরকে নতুন করে ফর্ম ফিলাপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  যারাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে তারা ঘৃণ্য মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে বলেই মনে করছে বিশ্ববিদ্যাল কর্তৃপক্ষ। জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।