স্কুলেই অশ্লীলতা, মোবাইলবন্দী ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড়

267

রায়গঞ্জ: স্কুলেই অশ্লীল আচরণে মত্ত ছাত্র-ছাত্রী। আর সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইটাহার ব্লকের একটি হাই  স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের  অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। প্রায় ১০ মাস পর  গত ১২ ফেব্রুয়ারি নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের দেওয়া টাকায় দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে নতুন ট্যাব পেয়েছে। সেই ট্যাব নিয়েই স্কুলে যাচ্ছে অনেকে। আর তাতেই তোলা হচ্ছে নানা রকম অশালীন আচরণের ভিডিও।

সদ্য ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ইটাহারের একটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির দুই পড়ুয়া অশ্লীল আচরণে মেতে উঠেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে স্কুল প্রাঙ্গণে দুই পড়ুয়া কখন একে অপরের হাতে গোলাপ তুলে দিচ্ছে। আবার কখনও মালা পরিয়ে দিচ্ছে। আবার কখনও একে অপরকে কাছে টেনে আলিঙ্গন এবং চুম্বনে মেতে উঠছে। এতে স্কুলের অন্য বন্ধু-বান্ধবীরাও যে তাদের সাহায্য করছে তাও ভিডিও থেকে পরিস্কার।

- Advertisement -

এদিকে বিষয়টি নজরে আসতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। স্কুলের প্রধানশিক্ষক এবং সহকারি প্রধানশিক্ষক বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, তারা কেউই কয়েকদিন ধরে স্কুলে যান না। তাই বিষয়টি জানা নেই। তবে এই ঘটনায় স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র এবং অভিভাবকদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

যদিও ইতিমধ্যে দুই পড়ুয়ার অশ্লীল ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। যদিও এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেননি। স্কুলের এক প্রাক্তন ছাত্র রবিন বর্মণ জানান, এমন ঘটনা স্কুলে ঘটবে তা ভাবাও যায়নি। রমেন সরকার নামে এক অভিভাবকের প্রশ্ন, স্কুল প্রাঙ্গণে যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে ছেলে মেয়েদের কিভাবে স্কুলে পাঠাবো। স্কুল প্রাঙ্গণে স্কুলের পোশাকে এমন ঘটনা ঘটায় রীতিমত হৈ চৈ শুরু হয়েছে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। স্কুলের প্রধানশিক্ষক বিপুল মৈত্র জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কলকাতায় থাকায় কেউ তাঁকে এমন ঘটনার কথা জানায়নি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, স্কুলের সহকারি প্রধানশিক্ষক চন্দ্র নারায়ণ সাহা জানান, ভোটের ডিউটি আসায় গত ২৫ তারিখ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। শুক্রবার অসুস্থতার কারনে স্কুলে যেতে পারেননি। তবে তার মত, স্কুল প্রাঙ্গণে অশালীন আচরণ মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা ঘটনার তদন্ত করবে।