ভোট দিতে বাধা, বুথের সামনেই ধর্নায় বসলেন ৮০ বছরের বৃদ্ধা

54

রায়গঞ্জ: নিজের ভোট নিজে দিতে না পেরে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ধর্নায় বসলেন ৮০ বছরের এক বৃদ্ধা। ঘটনাটি ঘটেছে কমলাবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের আদর্শ কমলাবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০৩ নম্বর বুথে।‌ বৃহস্পতিবার সকালে ওই বৃদ্ধা ভোট দিতে যান, সেইসময় বৃদ্ধার অভিযোগ, সেই বুথে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার‌ বলেন আপনার ভোট পোস্টাল ব্যালটে হয়ে গিয়েছে। যদিও বৃদ্ধার দাবি, তিনি পোস্টাল ব্যালটে কোনও ভোটই দেননি। তবে, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ইভিএমে ভোট দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে বৃদ্ধা ওই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে ধর্নায় বসেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বাসিন্দাদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিকেল পর্যন্ত এই পরিস্থিতি রয়েছে। যদিও পরবর্তীতে নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকরা গিয়ে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ২০০ মিটার বাইরে বৃদ্ধাকে বের করে দেওয়া হয়, তারপর সেখানে বৃদ্ধা ধর্নায় বসেন। তাঁর অভিযোগ, গণতন্ত্রের নামে প্রহসন চলছে। ভোট না দেওয়া পর্যন্ত ধর্না উঠবে না।

৮০ বছর বয়সে নিজে হেঁটে অনেক আশা নিয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন বাসনা সরকার নামে ওই বৃদ্ধা। তিনি ১৪ নম্বর কমলাবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের গনেশপুর গ্ৰামের বাসিন্দা। এ প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা নেতা জয়ন্ত রায় বলেন, ‘উনি ভোট দিতে পারেননি। যে করেই হোক ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।‘ সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা ওই বৃদ্ধার ভোট নেওয়ার জন্য কমিশনের কাছে চাপ সৃষ্টি করেছে। যদিও স্থানীয় তৃণমূল ও সংযুক্ত মোর্চার নেতারাও এই নিয়ে চাপ সৃষ্টি করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

- Advertisement -

সংশ্লিষ্ট বুথের বুথ লেভেল অফিসার ধনেশ্বর রায় বলেন, ‘এই গ্রামের মোট ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে ২০ জনের নাম দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছে। বাকি ১৮ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে বুথে গিয়েই ভোট দিতে হবে। এদিন সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতারা ওই বৃদ্ধার হয়ে ভোট দেওয়ার জন্য আমার উপর চাপ সৃষ্টি করে। আমি সমস্ত বিষয় বিডিওকে জানিয়েছি। এখানে আমার কিছু করার নেই। তবে, ওই বৃদ্ধার বুথে এসে ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল।‘

বুথের প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, ‘৮০ বছরের ঊর্ধ্বে ওই বৃদ্ধার ভোট ব্যালটের মাধ্যমে হয়েছে। উনি ভোট দিতে পারবেন না। এদিকে ভোটকেন্দ্রের বাইরেই ধর্নায় বসেছেন।‘