পাড় দখল করে পাকা বাড়ি, সেচ দপ্তরের ভূমিকায় প্রশ্ন

199

বর্ধমান: সেচ দপ্তরকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই সেচ খালের পাড়ের জমি দখল করে দেদার তৈরি হচ্ছে পাকা বাড়ি। ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর এলাকার। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, সেচ খালের পাড় দখল হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভের পারদ চড়তে শুরু করেছে স্থানীয় কৃষক মহলে। ইতিমধ্যে ওই নির্মাণগুলি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার সুর ক্রমেই জোড়ালো হতে শুরু করেছে।

জামালপুরের মেমারি-তারকেশ্বর রোডে হালাড়া থেকে চৌবেড়িয়া পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তার একপাশ জুড়ে রয়েছে সেচ খাল। ওই সেচখালের ওপরই ভরসা স্থানীয় চাষিদের। তাঁদের অভিযোগ আগে একসময় সেচ খালের পাড়ের দখল নিয়ে সারা বছর বালি মজুত করে রাখত বালি কারবারিরা। সমস্যায় পড়তে হত তাঁদের। একাধিক সময় প্রতিবাদের সুর চড়তেই সেচ খালের পাড়ে বালি মজুত রাখার কাজে ইতি পড়ে। যদিও নতুন করে চোখে সরিষার ফুল দেখতে শুরু করেছেন চাষিরা। কেননা, পাড় দখল করে তৈরি হচ্ছে একের পর এক পাকা বাড়ি।

- Advertisement -

স্থানীয় চাষিরা বলেন, ‘যারা বাড়িগুলি তৈরি করছেন তারা কেউ ভূমিহীন পরিবারের লোকজন নন। তারা বড় ব্যবসায়ী ও ধনী পরিবারের সদস্য। কৃষ্ণচন্দ্রপুর এলাকায় সেচখালের পাড়ে থাকা গাছ কেটে পাড় দখল করে তৈরি হচ্ছে পাকা।’ চাষিরা জানিয়েছেন, যেভাবে সেচ খালের পাড় দখল করে বাড়ি তৈরি হচ্ছে তার ফলে জমিতে সেচের জল পাওয়ার ক্ষেত্রে আগামীতে চুড়ান্ত সমস্যায় পড়তে হবে।

জামালপুর-১ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপ-প্রধান অলোক ঘোষ বলেন, ‘বছর তিনেক আগে সারাংপুর এলাকার এক বালি কারবারী সারাংপুরে সেচ খালের জায়গা দখল করে বেআইনিভাবে পাকা বাড়ি তৈরি করছিলেন। সেচ দপ্তরের কর্তারা পুলিশের সাহয্য নিয়ে সেই বাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছিলেন। লতুন করে সেচ খালের পাড় দখল করে যেসব পাকা বাড়িগুলি তৈরি হচ্ছে সেলিও সেচ দপ্তর গুঁড়িয়ে দোওয়া হোক।’

সেচ খালের পাড় দখল করে চলা অবৈধ নির্মান বন্ধে কি ব্যবস্থা নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর তা জানতে জামালপুর দপ্তরের সাব-ডিভিশনাল অফিসার দীনেশ ঠিকাদারকে একাধিক বার ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার(লোয়ার দামোদর ইরিগেশন সার্কেল) তপন পাল বলেন, ‘এবিষয়ে কিছু জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। বেআইনিভাবে সেচ দপ্তরের জায়গা দখল করে যারা পাকা বাড়ি তৈরি করছেন তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’