চাঁদমণির জমি দখল করে কোটি টাকায় বিক্রি

খোকন সাহা, বাগডোগরা : ফের বিতর্কে চাঁদমণি চা বাগান। এই বাগানের জমিতে টাউনশিপ করা নিয়ে আন্দোলনের জেরে একসময় উত্তরবঙ্গ উত্তপ্ত হয়েছিল। এবারে অবশিষ্ট জমি কোটি কোটি টাকায় বেহাত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জমি মাফিয়ারা সিন্ডিকেট গড়ে গৌচরণ মৌজা, ধুকুরিয়া মৌজা, উজানু মৌজা, বারোঘরিয়া মৌজার মতো জায়গাগুলিতে বাগানটির জমি বিক্রি করছে বলে অভিযোগ। এই জায়গাগুলির মধ্যে উজানু মৌজায় সবচেয়ে বেশি জমি বেহাত হয়েছে। জমি দখল করে বিক্রি করা ছাড়াও চামটা নদী দখল করেও জমি বিক্রি চলছে। নদীর বুকেই পাকা বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে। সবকিছু জেনেও প্রশাসন চুপ। জমি দখলের ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে আঙুল উঠেছে। যদিও শাসকদল অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মাটিগাড়া ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক দুর্জয় রায় জমি দখলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, চাঁদমণি টি কোম্পানি লিমিটেড উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন করেছে। উজানু মৌজায় বাগান শ্রমিকদের বসবাসের জমিগুলি বেশি করে বেআইনিভাবে হাতবদল হয়েছে। তিনি জানান, চাঁদমণি চা বাগানের ১০২ একর জমি সরকার বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করেছে। ধুকুরিয়া মৌজায় খেলার মাঠ, জনবসতি, কিছুটা অংশে চা বাগান এবং নদী রয়েছে। উজানু মৌজায় জমি দখল করে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার সাব-স্টেশন হয়েছে। গৌচরণ মৌজা দখল করা হয়েছে, বারোঘরিয়া মৌজায় খেলার মাঠ আছে ও কিছু জমি নদীতে চলে গিয়েছে। চা বাগানের জমি দখলের ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে দার্জিলিংয়ের জেলা শাসক এস পন্নমবলমকে ফোন করা হলে তিনি ফোন তোলেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি।

- Advertisement -

১৯৯৬ সালে বাম আমলে মাটিগাড়া ব্লকের চাঁদমণি চা বাগানের জমিতে টাউনশিপ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এ নিয়ে প্রচুর জলঘোলা হয়। এলাকায় টাউনশিপ তৈরির পর বর্তমানে চা বাগানের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। বাগানটির সিংহভাগ জমি মাটিগাড়া ব্লক এলাকার মধ্যে থাকলেও কিছু জমি শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে। এখানে খেলার মাঠও রয়েছে। সরকার অধিগৃহীত এই জমির ওপরই জমি মাফিয়াদের নজর পড়েছে। ফাঁকা জমি ছাড়াও চা শ্রমিকদের দখলে থাকা জমিগুলিও হাতবদল হয়ে বিক্রি হচ্ছে। রাস্তার পাশের জমিতে দোকানঘর করা হয়েছে। চামটা নদী দখল করে কয়েকতলা বাড়ি উঠেছে। নদীর মধ্যে ঢালাই করে পিলার তুলে বহুতল ভবন কীভাবে তৈরি হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর সিপিএমের রিতা ওরাওঁ বলেন, শ্রমিকরা এখানে তাঁদের পরিবার নিয়ে ৫০-৬০ বছর ধরে বসবাস করছেন। বাগানের ফাঁকা জমির পাশাপাশি তাঁদের জমিগুলিও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চামটা দখল করে নদীর বুকে বাড়িঘর তৈরি করা হয়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে রিতা অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, জমি দখলদারদের সঙ্গে তৃণমূলের লোকজন জড়িত। সিন্ডিকেট গড়ে তারাই এখানে জমি দখলের কারবার চালাচ্ছে। শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ওই জমি এখন সরকারের। জমিরক্ষার পাশাপাশি দখল করা জমি তাদেরই দখলমুক্ত করতে হবে। স্কুল করার জন্য এলাকায় জমি রাখা আছে। ওই জমিও দখল করা হচ্ছে। শাসকদলের মদত ছাড়া কোনওমতেই জমি মাফিয়ারা এখানে এসব কারবার চালানোর সাহস পেত না।

তৃণমূলের জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের দলের কেউই জমির বেআইনি কারবারের সঙ্গে যুক্ত নন। চাঁদমণি বাগানের জমি দখলের ঘটনায় যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে বলব।