শিলিগুড়ি থেকে ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব ছিল :  ঋদ্ধিমান

94

অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : রবিবার চেন্নাই উড়ে যাচ্ছেন। পৌঁছেই ঢুকে পড়বেন জৈব সুরক্ষা বলয়ে পরিবারের সঙ্গে দোল খেলা হবে না। থাকতে হবে সাত দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টিনে। তার আগে তিনি এখন ডুবে রয়েছেন অনুশীলনে। দুবাইয়ের শেষ আইপিএলে ৪ ম্যাচে ২১২ রান করে চমক দিয়েছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা। জনি বেয়ারস্টো স্কোয়াডে থাকার পরও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ টিম ম্যানেজমেন্ট ভরসা রেখেছিল পাপালির উপর। চোট পাওয়ার আগে পর্যন্ত ভালোভাবেই আস্থার মর্যাদা দিয়েছিলেন ভারতীয় টেস্ট দলের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলা আইপিএল থেকে শুরু করে নিজের ক্রিকেটীয় ভাবনা, একসময়ে সতীর্থ মনোজ তিওয়ারি-অশোক দিন্দাদের ভোটযুদ্ধ, বাংলা ক্রিকেটের ব্যর্থতা ও তাঁর নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে উত্তরবঙ্গ সংবাদকে একান্ত সাক্ষাত্কার দিলেন ঋদ্ধি। কখনও আবেগে ভাসলেন, কখনও বাস্তবের মাটিতে হাঁটলেন, আবার কখনও মনের ক্ষোভের কথা তুলে ধরলেন তিনি।

২০২১ আইপিএলের লক্ষ্য
অবশ্যই ভালো পারফর্ম করা। প্রথমে আমাদের প্লে-অফ নিশ্চিত করতে হবে। পরে ফাইনালের টিকিট। আর সবশেষে যদি ট্রফিটা পাওয়া যায়। আমার কাছে বরাবরই দল সবকিছুর আগে। কিন্তু পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে নিজের পারফরমেন্স আরও ভালো করার ব্যাপারটাও মাথায় থাকবে আমার।

- Advertisement -

গতবার ৪ ম্যাচে ২১২ রান
মনে আছে। চেষ্টা করে যাব ওই ধরনের পারফর্ম করতে। কিন্তু সবটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। তাছাড়া ক্রিকেটে অতীত বলে কিছু হয় না। শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে আবার।

কখনও ধোনি, কখনও পন্থ
আমার কাছে পুরো বিষয়টা চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা। জনি বেয়ারস্টো তো গতবারও ছিল। তারপরও আমি সুযোগ পেয়েছিলাম। এবারও সুযোগ পেলে সেরাটা দেওয়ার জন্য আমি তৈরি। বাকি সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্টের।

নো হোম অ্যাডভান্টেজ
আইপিএলে হোম অ্যাডভান্টেজ বলে কিছু হয় না। ঘরের মাঠে খেলা হলেও শুরুর আগে কোনও দলই এগিয়ে থাকে না টি২০ ফর্ম্যাটে। মাঠে নামার পর বাকিটা বোঝা যায়। আমার কাছে হায়দরাবাদ না চেন্নাইয়ে খেলছি, কোনওদিনও গুরুত্বপূর্ণ নয়। শেষ আইপিএলে তো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ কেন্দ্রে খেলেছি আমরা। আর গ্যালারিতে দর্শক থাকা না থাকার ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। কারণ বিষয়টা এখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক।

অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার
দীর্ঘসময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে ও। ফলে বেসিক ব্যাপারটা বাকিদের মতো ওর জানা। অসম্ভব ডেডিকেটেড ক্রিকেটার। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা রয়েছে ওর। রান করার পাশে সবসময় সফল হওয়ার মরিয়া চেষ্টা থাকে ওয়ার্নারের মধ্যে।

জাতীয় স্তরে বাংলার ব্যর্থতা
জানি। মরশুমটা ভালো যায়নি আমাদের। ক্রিকেটের সব বিভাগেই দল হিসেবে ব্যর্থ হয়েছে বাংলা। ধারাবাহিকতার বড্ড অভাব দলে।

ভবিষ্যতে বাংলার নেতৃত্বে ঋদ্ধি
গত ৭-৮ বছর ধরে আমার কাছে প্রস্তাব এসেছে। সেদিনও নিইনি। এখনও বাংলার অধিনায়ক হওয়ার কথা ভাবছি না। আর কেন নেব বলতে পারেন? এই বাংলা দলের টিম ম্যানেজমেন্টই একসময় বলেছিল, আমি দলের জন্য খেলি না। তারপর কেন যেচে নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে যাব বলুন তো।

কারা বলেছিল এমন কথা
থাক না, নাম করে আর নতুন বিতর্ক বাড়াতে চাই না। আমার ধারণা আপনি হয়তো জানেন বিষয়টা। প্লিজ, এর বেশি আর বলব না।

মনোজ-দিন্দার ভোটযুদ্ধ
(হাসি) কাউকে শুভেচ্ছা জানাইনি। যাকেই বলব, অন্যজনের খারাপ লাগবে। আবার দুজনকেও শুভেচ্ছা জানালে সমস্যা। তাই কাউকেই উইশ করিনি।

ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব
শিলিগুড়ি থেকে ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব ছিল। এখনই এসব নিয়ে ভাবনা নেই। রাজনীতি নিয়ে বিরাট আগ্রহ নেই। মনোজরা কেন রাজনীতিতে যোগ দিয়েছে, ওরাই বলতে পারবে। ভবিষ্যতে অন্য কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যাপারে পরে জানাব আপনাকে।