বুনিয়াদপুরে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অফিসে তালা ঝুলছে

দিলীপকুমার তালুকদার, বুনিয়াদপুর : কর্মীর অভাবে দুই বছর ধরে বন্ধ গঙ্গারামপুর মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। ফলে সমস্যায় পড়েছেন বংশীহারী, হরিরামপুর ও কুশমণ্ডি ব্লকে সংস্কৃতিক কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দপ্তরটি বন্ধ থাকায় প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার দূরে বালুরঘাটে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে যেতে হচ্ছে। এর ফলে সময় ও টাকা দুয়েই অপচয় হচ্ছে। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক শান্তনু চক্রবর্তী বলেন, কর্মীসংকটের কারণে দুই বছর আগে গঙ্গারামপুর তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরটি বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই কর্মীসংকট মিটে গিয়ে পুনরায় দপ্তর খুলবে।

জেলার লোকশিল্পী অরিন্দম সিংহ রানা, কবি গোবিন্দ তালুকদাররা বলেন, কী কারণে মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর বন্ধ হয়ে গেল, জানি না। দপ্তরটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মহকুমার তিনটি ব্লকে সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত মানুষজন খুবই সমস্যায় পড়েছেন। আমাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে বালুরঘাটে অবস্থিত জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে ছুটতে হচ্ছে। ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে বালুরঘাটে যেতে আমাদের বাস ভাড়া বাবদ ভালোই টাকা খরচ হচ্ছে। সেই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে সময়ও। আমরা চাই অবিলম্বে মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর চালু হোক। আমরা এই ব্যাপারে জেলা শাসক ও মহকুমা শাসকের হস্তক্ষেপ দাবি করছি।

- Advertisement -

১৯৯২ সালে অলোক মিত্র কমিশনের সুপারিশে পূর্বতন পশ্চিম দিনাজপুর জেলা ভাগ হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা গঠিত হয়। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সদর শহর বালুরঘাটের অধীনে দুটি মহকুমা গঠিত হয়। একটি বালুরঘাট অন্যটি গঙ্গারামপুর মহকুমা। গঙ্গারামপুর মহকুমার সদর শহর বুনিয়াদপুর। এই বুনিয়াদপুরেই রয়েছে মহকুমাশাসকের দপ্তর, আদালত, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, খাদ্য দপ্তর প্রভৃতি। কিন্তু তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর চালু না হওয়ায় ক্ষোভ দেখা দেয় স্থানীয় শিল্পী তথা সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে মহকুমা শাসকের দপ্তরের একটি ঘরেই একজন মাত্র কর্মীকে নিয়ে চালু হয় মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। এর ফলে সুবিধা হয়েছিল মহকুমার বংশীহারী, হরিশ্চন্দ্রপুর ও কুশমণ্ডি ব্লকের সংস্কৃতিপ্রেমীদের। অনায়াসেই সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত সব কাজ হচ্ছিল দপ্তরে। কিন্তু এরপর হঠাৎ করে গত দুবছর আগে বন্ধ হয়ে যায় তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরটি।

জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক শান্তনু চক্রবর্তী বলেন, একজন মাত্র কর্মী নিয়ে গঙ্গারামপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরের একটি ঘরে মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর চালু হয়েছিল। কিন্তু কর্মীসংকটের কারণে প্রায় দুই বছর আগে দপ্তরটি বন্ধ হয়ে যায়। এই বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সব জানিয়েছি। আশা করছি কর্মীসংকট কাটিয়ে দ্রুত গঙ্গারামপুর মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর পুনরায় তার পথ চলা শুরু করবে।