মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে জয়ী সেতু পরিদর্শনে জেলা প্রশাসনের কর্তারা

814

মেখলিগঞ্জ: মঙ্গলবার মেখলিগঞ্জে তিস্তা নদীর উপর নির্মীয়মান জয়ী সেতু ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করল প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল। দলে কোচবিহারের অতিরিক্ত জেলাশাসক লক্ষ্মী বি তন্নিরু, মেখলিগঞ্জের মহকুমাশাসক রামকুমার তামাং, মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় সিংহ সরকার প্রমুখ ছিলেন।

অতিরিক্ত জেলাশাসক এদিন সেতুর কাজের অগ্রগতি এবং সেতু সংযোগকারী অ্যাপ্রোচ রোডের কাজের সম্পর্কেও যেমন খোঁজখবর নিয়েছেন, তেমনি সেতু সংলগ্ন এলাকায় পরে থাকা সরকারি জমিও পরিদর্শন করেছেন। যদিও এবিষয়ে প্রসাশনের প্রতিনিধি দলের কর্তারা কোনওরকম মন্তব্য করেননি। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোচবিহারে আসার কথা রয়েছে। তার আগে জয়ী সেতুর কাজের বিষয় সম্পর্কেও বিস্তারিত খোঁজখবর এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য নিয়ে রাখতে চাইছেন প্রশাসনের কর্তারা, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

- Advertisement -

কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমায় দুটি ব্লক রয়েছে। একটি মেখলিগঞ্জ। অপরটি হলদিবাড়ি ব্লক। তিস্তা নদী এই ব্লক দুটিকে আলাদা করে রেখেছে। এই মহকুমার দুটি ব্লকের মধ্যে সরাসরি দূরত্ব ১০ কিলোমিটার হলেও তিস্তা নদীতে সেতু না থাকায় দুই ব্লকের মানুষকে প্রায় ৮০ কিমি ঘুরপথে জলপাইগুড়ি শহর হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। মেখলিগঞ্জ সদর ব্লক, তাই মহকুমার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর-আদালত মেখলিগঞ্জে অবস্থিত। সেই কারণে হলদিবাড়ি ব্লকের বিভিন্ন মানুষকে প্রতিদিন নানা কাজে মেখলিগঞ্জ শহরে আসতে হচ্ছে।কিন্তু সেতু না থাকায় তাঁরা চরম দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন।

বহুদিন থেকেই তিস্তা নদীতে সেতু গড়ার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন মেখলিগঞ্জ মহকুমাবাসী। কারণ তিস্তায় সেতু থাকলে দুই মহকুমার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হবে। অবশেষে কয়েক বছর আগে তিস্তা নদীতে পাকা সেতু গড়ার কাজ শুরু হয়। নদীর উপর প্রায় আড়াই কিমি এই সেতু গড়ার কাজ অনেকটা এগিয়েছে। তৈরি করা হচ্ছে সেতু সংযোগকারী রাস্তাও। মুখ্যমন্ত্রীর কোচবিহার সফরের আগে জেলা প্রশাসনের কর্তাদের জয়ী সেতু এলাকার কাজ পরিদর্শনে দ্রুত সেতু চালুর বিষয়ে অনেকে আশাপ্রকাশ করেছেন।