মাস্টার অফ সার্জারিতে রাজ্যসেরা আলিপুরদুয়ারের ঐন্দ্রিলা

3394

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : মনের জোর আর মেধার মিশেলে কোনও প্রতিবন্ধকতাই শেষ পর্যন্ত বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। বহুবার প্রমাণিত একথা আলিপুরদুয়ারের ঐন্দ্রিলা বিশ্বাস আরও একবার প্রমাণ করলেন। আলিপুরদুয়ার শহরের এই মেধাবী মেয়ে মাস্টার অফ সার্জারি (এমএস)-এ রাজ্যে প্রথম হয়েছেন। এসএসকেএমের ছাত্রী ঐন্দ্রিলা রাজ্যে প্রথম হওয়ার সুবাদে গোল্ড মেডেলিস্টও হয়েছেন। এবারে লক্ষ্য অঙ্কোলজি নিয়ে এসএস পড়ার। ইতিমধ্যেই সর্বভারতীয় নিট-এসএস পরীক্ষায় তিনি ৩৬৪ র‌্যাংক করেছেন। ঐন্দ্রিলার এই সাফল্যে গোটা আলিপুরদুয়ার তো বটেই এসএসকেএমের চিকিৎসক ও সহপাঠীরাও রীতিমতো গর্বিত। ঐন্দ্রিলা বলছেন, এমবিবিএস পড়ার সময়ে সার্জারি নিয়ে আগ্রহ বাড়ে। এমএস পড়ার সময় এ নিয়ে অনেকেই আমাকে কটাক্ষ করেন। এমনকি সার্জারি নিয়ে পড়লে গাইনিকলজি নিয়ে পড়তে অনেকে পরামর্শ দেন। কিন্তু আমি দমে যাইনি। পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করার লক্ষ্য ছিল। ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন কিছু করতে সার্জারিকেই বেছে নিই। এখন সার্জারি নিয়ে সুপারস্পেশালিটি করব। তারপর জেলায় গিয়ে ক্যানসার আক্রান্তদের খুঁজে বের করে তাঁদের চিকিৎসা করব।

ঐন্দ্রিলা আলিপুরদুয়ার শহরের হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দা উত্তম বিশ্বাস ও রিতা বিশ্বাসের একমাত্র সন্তান। উত্তমবাবু ব্যবসায়ী ও তাঁর স্ত্রী স্বাস্থ্যকর্মী। ঐন্দ্রিলা স্কুলজীবনে বরাবর প্রথম হয়েছেন। ২০০৯ সালে শহরের নিউটাউন গার্লস স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে বিজ্ঞান নিয়ে জিৎপুর হাইস্কুলে ভর্তি হন। ২০১১ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেন। একই বছরে তিনি জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। ওই পরীক্ষায় সফল হয়ে ডাক্তারি পড়তে তিনি কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ ও হাসাপাতালে ভর্তি হন। ২০১৭ সালে এমবিবিএস পাশ করেন। সেরার সেরা হয়ে প্রাপ্তি স্বর্ণপদক। মাস্টার অফ সার্জারি পড়তে ওই বছরই তিনি এসএসকেএমে ভর্তি হন। সম্প্রতি এমএস-এর ফলাফল প্রকাশিত হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি তিনি গোটা রাজ্যে সেরা হয়েছেন। সেরার সেরা হওয়ার সুবাদে এবারও স্বর্ণপদক প্রাপ্তি। করোনা যোদ্ধা হিসাবে বর্তমানে কলকাতার এমআর বাঙুরে কর্মরত ঐন্দ্রিলা সার্জারি নিয়ে সুপারস্পেশালিটি করার জন্য ক্যানসারকে বেছে নিয়েছেন। সর্বভারতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এ ৩৬৪ র‌্যাংক করেছেন। এখনও অবশ্য কাউন্সেলিং বাকি।

- Advertisement -

কাউন্সেলিং হলে তিনি তিন বছরের জন্য এসএস পড়তে চলে যাবেন। অন্য কোনও রোগ না হয়ে ক্যানসারই কেন লক্ষ্য? ঐন্দ্রিলা বলছেন, ক্যানসার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা আছে। ক্যানসার হলেই যে মৃত্যু নয়, এরও যে চিকিৎসা আছে তা সাধারণ মানুষ বোঝে না। তাই ক্যানসার নিয়ে কাজ করব বলে এমবিবিএস পড়ার সময় থেকেই ঠিক করেছিলাম। এছাড়া যে কোনও সূক্ষ্ম কাজ পুরুষদের তুলনায় মহিলারা অনেক ভালোভাবে করতে পারেন। একথা বহুবার প্রমাণিত। মেয়ে সাফল্যে উচ্ছ্বসিত উত্তমবাবু বলছেন, ব্যবসার কাজে সারাদিন ব্যস্ত থাকলেও মেয়ে জীবনে কিছু একটা করবে বলে বরাবরই ভরসা ছিল। সবার জন্য ও জীবনে কিছু করার চেষ্টা করে চলায় খুবই ভালো লাগছে। স্বামীকে সমর্থন করে রিতাদেবীও একই কথা জানান।