ভোটে কদর কম, আক্ষেপ জামালদহের বৃদ্ধা নীলেশ্বরীর

91

রামকৃষ্ণ বর্মন, জামালদহ : ভোটার কার্ড অনুযায়ী বয়স ৬৬। তবে সামনে থেকে দেখলে ৮০ বছরের কম হবেন না। বহুকাল আগেই স্বামী গত হয়েছেন। বর্তমানে জীর্ণ শরীর নিয়ে একাকিত্বেই জীবন কাটাচ্ছেন মেখলিগঞ্জের জামালদহের বাসিন্দা বৃদ্ধা নীলেশ্বরী বীর। দেখাশোনার কেউ না থাকায় অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরেই। এভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই কোনওমতে মিললেও রোজ ঠিকমতো খাবার জোটে না।

এই পরিস্থিতিতে কার্যত অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন অসহায় ওই বৃদ্ধা। শরীরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুখ বাসা বাঁধলেও চিকিত্সার কোনও সুযোগ পাননি। বিনা চিকিত্সায় কার্যত মৃত্যুমুখে তিনি। বৃদ্ধার আক্ষেপ, একলা ভোটার, তাই হয়তো কদর কম। সেই কারণেই তাঁর বাড়িতে পা পড়ে না কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীর।

- Advertisement -

স্বামী খগেন্দ্র বীরের মৃত্যু হয়েছে অনেক বছর আগেই। নীলেশ্বরীদেবীর তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। তার মধ্যে দুই ছেলে ও এক মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুই সন্তান বিধবা মা-কে একলা ফেলে রেখে আলাদা হয়ে যান। বর্তমানে তিনি এক দম্পতির বাড়িতে আশ্রিতা। বৃদ্ধার আশ্রয়দাতা ওই দম্পতি দিলীপ বর্মন ও মিনতি বর্মন জানিয়েছেন, আগে তিনি ভিক্ষা করে কোনওমতে খিদের জ্বালা মেটাতেন। এখন বয়সের ভারে তাঁর শরীর ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। চোখের দৃষ্টিও চলে গিয়েছে। ভিক্ষা করার মতো শারীরিক সামর্থ্যটুকুও নেই। হাঁটাচলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। তাই খাবারের জন্য অন্যের দয়ার ওপর তাঁকে নির্ভর করতে হয়।

স্বামী বেঁচে থাকাকালীন তিনি ১৯০ নম্বর খারিজা জামালদহ গ্রামে সুটুঙ্গা নদীর তীরে বসবাস করতেন। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পরে সেখান থেকে প্রায় তিন কিমি দূরে ১৯৪ নম্বর দ্বারিকামারিতে গিয়ে আশ্রয় নেন নীলেশ্বরীদেবী। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার আবেদন-নিবেদনের পরেও প্রশাসনের তরফে সেভাবে কোনও সহায়তা মেলেনি বৃদ্ধার কপালে। রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরাও ওই বৃদ্ধার কোনও খোঁজখবর নেন না। শনিবার ওই বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, তিনি শয্যাশায়ী। উঠে বসার সামর্থ্যটুকুও নেই। বেশ আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, পাছে যদি সাহায্য চেয়ে বসি, সেই ভয়ে হয়তো আমার খোঁজ নিতে কেউই আসেন না। আমি এখন সবার বাতিলের খাতায়। বৃদ্ধা আরও বলেন, শুনেছি ভোট এসেছে। প্রতিবার ভোটের আগে কত মানুষের আনাগোনা হয় বাড়িতে। কিন্তু এবার এখনও পর্যন্ত কেউই এলেন না। এবার কেউ আসবে বলে মনে হয় না। আমার একটি ভোট না পেলে কারও কিছু যায় আসে না বলে মনে হচ্ছে।

জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গীতা বর্মন জানান, বিপিএল তালিকায় নাম না থাকায় সরকারি সুবিধা পেতে বৃদ্ধার সমস্যা হচ্ছে। মেখলিগঞ্জ ব্লক প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছে। আশাকরি বৃদ্ধা সাহায্য পাবেন।স্থানীদের আশা খুব শীঘ্রই বৃদ্ধার পাশে প্রশাসন দাঁড়াবে। প্রশাসনের এরকম মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উচিত।