এক মাস ধরে রাস্তায় থাকেন বৃদ্ধা

শিলিগুড়ি : বছর আশির বৃদ্ধা মা মঞ্জু ঘোষচৌধুরির ঠিকানা এখন শিলিগুড়ির রাস্তা। গত প্রায় এক মাস ধরে রাস্তায় ঘুরে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে ওই বৃদ্ধাকে শিলিগুড়ির সুভাষপল্লির হাতি মোড় এলাকায় খালি পায়ে হাতে একটি লাঠি নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখে এগিয়ে আসেন উদয়শংকর চন্দ, সুনন্দ সরকার সহ বেশ কয়েকজন। তাঁরাই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে শুশ্রুষা করেন। মঞ্জুদেবীর স্বামী প্রদ্যুৎ ঘোষচৌধুরি এমইএস-এ চাকরি করতেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি পেনশন পান।

মঞ্জুদেবী জলেশ্বরীতে নিজের বাড়িতে থাকতেন। বড়ো মেয়ে মহুয়া দাস (ঘোষচৌধুরি) মার সঙ্গে সেই বাড়িতে থাকেন। মঞ্জুদেবী কান্নাভেজা চোখে অভিযোগ করেন, বড়ো মেয়ে সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়ে আমাকে বের করে দিয়েছে। যা টাকা পেনশন পেতাম সেটাও সে নিয়ে নিত। এখন কী করব জানি না। বড়ো মেয়ে মহুয়া দাসের সঙ্গে এদিন যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শিলিগুড়ির কলেজেপাড়ার একটি আবাসনে থাকেন মঞ্জুদেবীর ছোটো মেয়ে মৌসুমি দত্ত (ঘোষচৌধুরি)। পেশায় আইনজীবী মৌসুমি দত্তের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্ট বলেন, নয় বছর থেকে মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। আমি নিজে অসুস্থ। তাই বাড়তি কারও দায়িত্ব নিতে পারব না। সে আমার মা হলেও নয়। তার দায়িত্ব নেওয়ার মতো পরিস্থিতি আমার নেই। মা কী করবে তা আমার জানা নেই। মা যদি বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে চায় তাহলে যেতে পারে।

- Advertisement -

দার্জিলিং ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল এইড ফোরামের সেক্রেটারি অমিত সরকার, সমাজসেবী পীযূষ রায় সহ অন্যরা রাতে ওই মহিলার সঙ্গে দেখা করেন। রাতেই তাঁরা ওই বৃদ্ধাকে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভরতি করান। এ বিষয়ে লিগ্যাল এইড ফোরামের সম্পাদক অমিত সরকার বলেন, একটা দিন মঞ্জুদেবী দেখভালের মধ্যে থাকুক সেই কারণে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। বুধবার তাঁকে বাড়িতে ফেরানোর চেষ্টা করা হবে। তা না হলে বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও রাখার ব্যবস্থা করা হবে। এদিনের ঘটনার খবর পেয়ে ওই বৃদ্ধার খোঁজ নিতে শিলিগুড়ি থানার পুলিশও যায়।