শিবরাত্রিতে উচ্চতার মূর্তির টক্কর পুরাতন মালদায়

264

পুরাতন মালদা, ২০ ফেব্রুয়ারি: মাইলের পর মাইল হেঁটে কেউ বাঁকে করে গঙ্গাজল আনতে ব্যস্ত। কেউবা ফুল, বেলপাতা, ধুতুরার খোঁজে চষে ফেলেছেন বাজার। কারও চিন্তার অন্ত নেই শিবরাত্রির পুজো নিয়ে। তবে সে সব কিছু ছাপিয়ে গেছে দেবাদিদেব মহাদেবের উচ্চতা। পুরাতন মালদায় পাড়ায় পাড়ায় এখন জোর টক্কর শিবঠাকুরের উচ্চতা নিয়ে। কোথাও পনেরো, কোথাও সতেরো তো কোথাও কোথাও কুড়ি ফিটের প্রতিমা গড়ে তাক লাগাতে মরিয়া পুজো উদ্যোক্তারা। পুরাতন মালদার শহর গ্রাম সর্বত্রই শিবরাত্রি পালনের তোড়জোড় লক্ষ্য করা গেল। এক এক জায়গায় এক এক রকমে চলছে পুজোর আয়োজন। কোথাও চারপ্রহর ধরে হবে পূজা, তো কোথাও রাতভর জল ঢালবেন ভক্তরা। তবে এসবকে ছাপিয়ে মহাদেবের  মূর্তির উচ্চতা নিয়ে ক্লাবে ক্লাবে জোর লড়াই নজর কাড়ল সবার। এমনিতেই শিবরাত্রি নিয়ে আট থেকে আশি- উন্মাদনা থাকে সবারই। পাড়ার ছোটো, বড়, মাঝারি সব শিব মন্দিরেই ছিল সাজো সাজো রব। পাড়ার মহিলা, যুবক যুবতী সবাই অংশ নেন মন্দির সাজিয়ে তুলতে। ধুতুরা ফুল, বেলপাতায় সাজানো হয় শিবলিঙ্গ। বাঁক কাঁধে যারা জল নিয়ে দূরদূরান্তে চলেছেন তাদের জন্য জলসত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে রাস্তার ধারে বহু জায়গায়। কোথাও আবার ভক্তদের জন্য আলাদা বিশ্রামের জায়গাও তৈরি করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই হাজার হাজার ভক্ত শিবলিঙ্গে জল ঢালবেন। তবে পুরাতন মালদার বিভিন্ন ক্লাবে শিবমূর্তি গড়ে পূজার হিড়িক ছিল অনেক বেশি। বলা যায় অনেক ক্লাবই উঁচু মূর্তি গড়ে ভক্তদের নজর কাড়তে চেয়েছে। সাহাপুর দুই নম্বর বিমল দাস কলোনির শিবশক্তি সংঘ প্রতিবছরই চব্বিশ থেকে ছাব্বিশ ফিটের প্রতিমা গড়ে তাক লাগান। এবারও তাদের ক্লাবের শিবমূর্তি উচ্চতায় তাক লাগাবে সকলকে। তাদের পুজোর বাজেট প্রায় এক লাখ টাকা। ক্লাব কর্তা নয়ন হালদার জানালেন, ‘এলাকার প্রায় হাজার খানেক ভক্ত এখানে শিবলিঙ্গে  জল ঢালেন। পুজোর পর ভক্তদের প্রসাদ খাওয়ানো হবে’। সাহাপুর শিবশক্তি ক্লাবকে টক্কর দিতে তৈরি সদরঘাটের শিব কমিটি। এবারে তারা প্রায় আঠারো ফিটের শিবমূর্তি গড়েছেন। ক্লাব কর্তা চন্দন মণ্ডল জানালেন, ক্লাবের কনিষ্ঠ সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে এই পুজো করছে। এ বছর বিশাল শিবমূর্তি গড়া হচ্ছে। আবার বাচামারি ধানহাট শিবপুজো কমিটি প্রতি বছরের মতো এবছরও দশ ফিট উচ্চতার শিব গড়েছে। মহাদেবের সঙ্গে রয়েছেন পার্বতী ও গণেশ। নন্দী ভৃঙ্গী সমেত শিবকে দেখতে এখানে এলাকার মানুষ ভিড় করেন বলে জানালেন ক্লাবকর্তারা।