বিনা পারিশ্রমিকে ১০ বছর ধরে ট্রাফিক সামলাচ্ছেন এই বৃদ্ধ

201

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: এক বৃদ্ধকে পুলিশের উর্দি পরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায় রায়গঞ্জ শহরের শিলিগুড়ি মোড় এলাকায়। প্রত্যেকদিন সকালে ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ করে চলেন ট্রাফিক। তবে তিনি একা নন, প্রায় ২৫ জন্য সিভিক ভলান্টিয়ার রায়গঞ্জের এই ব্যস্ততম এলাকায় যান নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত। ৭০ বছরের প্রাক্তন এনভিএফ কর্মী ভীম ছেত্রী প্রায় ৩ বছর ধরে স্বেচ্ছায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করে চলেছেন। কখনও চিৎকার করে কাউকে কিছু বলছেন, আবার কখনও হাত নেড়ে দাঁড় করাছেন কোনও গাড়িকে। কাঠফাটা রোদ হোক কিংবা কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যে অন্যদের মতো দায়িত্ব পালন করেন। বর্ষা বা শীতে বিরাম নেই তাঁর। এই কাজের জন্য কোনওরকম পারিশ্রমিক নেন না তিনি। প্রতিদিন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা টিফিন থেকে শুরু করে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন।

বর্তমানে ভীমবাবুর বয়স ৭০ বছর। এনভিএফ কর্মী হিসেবে দার্জিলিংয়ে কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি রায়গঞ্জে চলে আসেন। রায়গঞ্জ থানায় পোস্টিং ছিল তাঁর। সেই সময় তাঁকে যথেষ্ট নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে দেখেছেন অনেকেই। ২০১২ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন তিনি। সরকারি ভাবে অবসর নিলেও তাঁদের নেই কোনও পেনশন বা অন্য কোনও সুযোগ-সুবিধা। ফলে চরম কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছেন বৃদ্ধ ভীম ছেত্রী। রায়গঞ্জ শহরের এফসিআই মোড়ে বাড়ি থাকলেও তিনি রাত কাটান ফুটপাতের ধারে বন্ধ দোকানের বারান্দায়।

- Advertisement -

ভীমবাবু জানান, নিজের ইচ্ছায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করেন তিনি। গত ১০ বছর ধরে এটাই তাঁর রোজনামচা। ট্রাফিকের কর্তব্যরত নিষেধ করেন। কিন্তু কাজ ছেড়ে থাকতে পারেন না তিনি। জনসাধারণের যাতে কোনও অসুবিধে না হয় সেজন্য এই কাজ করা। তবে সবাইকে ট্রাফিক আইন মানতে হবে। তিনি বলেন, ‘দার্জিলিং থেকে চলে আসার পর এই কাজ করছি। খুব ভালো লাগে। পুলিশকর্মীরা আমার খাবারের ব্যবস্থা করেন। যতদিন সুস্থ থাকব ততদিন এই কাজ করে যাব।’

এই ভয়াবহ করোনা তাঁর কাজের বাধা হয়ে উঠতে পারেনি। বয়সের ভারে শরীর না চললেও অন্যদের মতো খাকি উর্দি পরে এবং বাঁশি বাজিয়ে ব্যস্ততম এলাকায় যান নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। ট্রাফিকে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা জানান, উনি তাঁদের মতো ডিউটি করেন। অনেকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও উনি কথা শোনেন না। তাঁদের তরফে ওঁনার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘ভীম ছেত্রী অবসর নিলেও দীর্ঘদিন ধরে যান নিয়ন্ত্রণ করে চলেছেন। করোনা আবহের মধ্যে আমাদের বৃদ্ধ বাবা-মা’কে গৃহবন্দি করে রেখেছি তবে ভীমবাবু নিজের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। পরিবারের লোকজন তাঁকে অবহেলা করলেও ট্রাফিকের পুলিশকর্মীরা তাঁকে দেখাশোনা করেন এবং খাবারের ব্যবস্থা করেন। মাঝেমধ্যে আমরাও তাঁকে খাবার দিয়ে থাকি।’