এনবিএসটিসির পুরোনো অফিস এখন দুষ্কৃতীদের আখড়া

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ির তিনবাত্তি মোড় এলাকায় ১২ একর জমিতে থাকা এনবিএসটিসির পুরোনো ডিভিশনাল অফিস, ওয়ার্কশপ ও কোয়ার্টারের বেহাল দশা। এনবিএসটিসির তরফে এক বহুজাতিক সংস্থার সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, ওই ভবনগুলি ভেঙে নতুন করে তৈরি করে দেওয়ার কথা ছিল। এরপর দশ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। মাঝে সরকারের পালাবদলের পর একাধিকবার মাপজোখও হয়েছে। কিন্তু আশ্বাসমতো নতুন করে অফিস তৈরি করা দূরের কথা, পুরোনো ভবনটি দুষ্কৃতীদের আস্তানা হয়ে উঠেছে। সেখানে প্রায়ই অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। সম্প্রতি ভবনের চাঙড় ভেঙে একজন মারাও গিয়েছেন। ওই জমির একপাশ দিয়ে দখলদারিও শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ। চারিদিক আগাছায় ভরে গিয়েছে। ঝোপঝাড় পেরিয়ে ভগ্নদশায় থাকা ভবনটি দেখে বোঝার উপায় নেই একসময় ওই দোতালা ভবনই ছিল নিগমের ডিভিশনাল অফিস।

নিগম সূত্রে খবর, বহু বছর আগে তিনবাত্তি মোড় সংলগ্ন ওই অফিসের সামনে থেকেই বাস ছাড়ত। দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মীদের থাকার জায়গাও ছিল। ২০১০ সালে পুরো জমিটি ব্যবহারের জন্য এক বহুজাতিক সংস্থাকে চুক্তি হিসেবে লিজ দেওয়া হয়। চুক্তিতে ঠিক হয় ছয় মাসের মধ্যে সংস্থাটি পাঁচ একর জমির মধ্যে ডিভিশনাল অফিস, ওয়ার্কশপ, কন্ট্রোল রুম তৈরি করে দেবে। বাকি জমি ওই সংস্থা নিজের মতো করে ব্যবহার করবে। এরপর ডিভিশনাল অফিসটি অস্থায়ীভাবে মাটিগাড়ায় চলে যায়। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেখানে কোনও কাজ হয়নি। ভবনের ঘরগুলিতে ছড়িয়ে থাকা পোড়া রাংতা, সিরিঞ্জ বুঝিয়ে দিচ্ছে জায়গাটি এখন দুষ্কৃতীদের দখলে। ভবনটিকে কেন্দ্র করে দুষ্কৃতীদের উৎপাতে সন্ধ্যা হতে না হতেই দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন এলাকার ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় দোকানদার সুভাষ সরকার বলেন, নিগমের এই পুরোনো ভবন ও জমিটাই এখন দুষ্কৃতীদের আখড়া। ভয়ে ভয়ে থাকি। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড তথা ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর অসীম সাহা বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে ওই জমিতে দুষ্কৃতীদের আনাগোনা শুরু হয়। আমরা হয়রান হয়ে গিয়েছি। নিগমের কাছে আমাদের অনুরোধ, এ ব্যাপারে নজর দিন।

- Advertisement -

অন্যদিকে, চুক্তির কী হল তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন নিগমের কর্তারা। বাম প্রভাবিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা তুফান ভট্টাচার্য বলেন, আমরা জানতে চাই, দশ বছর ধরে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থেকেও কেন জমিটির সুরাহা করতে পারল না। তবে চুক্তি হিসেবে কাজ করতে না পারায় ইতিমধ্যেই ওই বহুজাতিক সংস্থা জমিটি ছেড়ে দিতে চেয়েছে বলে জানিয়েছেন নিগমের তৃণমূল প্রভাবিত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বিশ্বাস। তিনি বলেন, সরকারি ওই সম্পত্তি আমরা বাঁচাতে চাই। বাম আমলে ওই বহুজাতিক সংস্থাকে জমিটি চুক্তিতে লিজ দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী ওরা কাজ করতে পারেনি। তাই জমিটি ছেড়ে দিচ্ছে। এজন্য তারা ১০ কোটি টাকা চেয়েছে। করোনার জেরে নিগম এখন আর্থিক ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। এ ব্যাপারে আগামী বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা হবে।