জমিতে লাঙল দিতেই কড়ি ভর্তি কলসি উদ্ধার

757

মানিকগঞ্জ: আলুর জমিতে গোড়ায় মাটি দেওয়ার জন্য লাঙল দিতে গিয়ে কড়ি ভর্তি কলসি উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মানিকগঞ্জে। ঘটনায় প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকদের দিয়ে পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়কামত এলাকার ঘটনা। উদ্ধার হওয়া ওই প্রাচীন কলসির ভেতরে ছিল বহু পুরোনো দিনের কড়ি।

জানা গিয়েছে, রবিবার ওই এলাকার বাসিন্দা কমল রায় আলু গাছের গোড়ায় মাটি দেওয়ার জন্য লাঙল দিচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই তাঁর লাঙলটি মাটির নীচে বেশ শক্ত কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খায়। কৌতূহল বশত বেশ কিছুটা মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে পড়ে কড়ি ভর্তি ওই কলসি। লাঙলের ফালের আঘাতে মাটির হাঁড়ির কিছুটা অংশ ভেঙে গিয়েছে। এই কড়ি উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তা চাক্ষুস করতে ধীরে ধীরে এলাকার উৎসুক মানুষজন কমল রায়ের জমিতে ভিড় জমান। সেগুলি সংগ্রহ করে নিজের কাছেই রেখে দেন কমল। ঐতিহাসিক গবেষণার জন্য যদি প্রত্নতাত্ত্বিকবিদ বা সরকারি সংগ্রহশালার তরফে যোগাযোগ করা হয় তবে সেগুলি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

- Advertisement -

পরিবারের অন্য সদস্য প্রসন্নকুমার রায় বলেন, ‘ওই জমিটিতে প্রাচীনকাল থেকেই বাঁশঝাড় ছিল। গতবছর বাঁশঝাড়টি কেটে পরিষ্কার করে চাষের জমি বের করা হয়। সেসময়ও একইভাবে কোদাল দিয়ে মাটি কাটতেই একটি কলসি ভর্তি কড়ি উদ্ধার হয়েছিল। এদিন দ্বিতীয় কলসটি উদ্ধার হয়।

স্থানীয় উপপ্রধান সুমিত্রা দেব অধিকারি বলেন, ‘আলু গাছে মাটি দেওয়ার জন্য লাঙল টানতেই একটি কলসি বেরিয়ে আসে। সেই কলসিতেই ছিল কড়িগুলি। কড়িগুলি কোন সময়ের তা জানা প্রয়োজন বলে মনে করছি। বিষয়টি ব্লক প্রশাসনের নজরে আনা হবে।’

কোচবিহার হেরিটেজ সোসাইটির হলদিবাড়ি শাখার সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র রায় বলেন, ‘গুপ্ত শাসনকালের শেষভাগে টাকার পরিবর্তে কড়ির প্রচলন হয়েছিল। কড়ি দিয়ে লেনদেন হত। ধনী ও ব্যবসায়ীরা এই কড়ি মাটির পাত্রে রাখতেন। চোর-ডাকাতের ভয়ে অনেক সময় মাটিতে পুতে রাখা হত এবং বিভিন্ন কারণে হয়ত এই কড়ি আর মাটি থেকে তোলা হয়নি ফলে তা মাটির নীচে থেকে যায়। এছাড়াও মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্যে বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে কড়ির ব্যবহারের উল্লেখ আছে। তখনকার সময়ে শহরে স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রার প্রচলন থাকলেও গ্রামাঞ্চলে কড়ির প্রচলনই বেশি ছিল।

বরিষ্ঠ প্রতিবেশী পরিমল রায় বলেন, ‘এই এলাকা থেকে এর আগেও মাটির নীচ থেকে বিভিন্ন প্রাচীন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা গবেষণা করে দেখুক, এই কড়িগুলি কতটা প্রাচীন। এই ঘটনায় একটি বিষয় পরিষ্কার যে এই অঞ্চলটি একটি প্রাচীন জনপদ ছিল।

কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক কার্তিক সূত্রধর বলেন, ‘মাটির নীচ থেকে উঠে আসা কড়িগুলি কতটা পুরোনো তা অনুসন্ধান না করে কখনোই বলা সম্ভব নয়। কোচ রাজ্যের প্রতিষ্ঠার পূর্বে কামরূপ ও কামতপুরের শাসকরা কড়ির মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন করতেন।’