গৌড়ভূমিতে হারিয়ে যাচ্ছে সেন রাজাদের ইতিহাস

হরষিত সিংহ, মালদা : অবহেলায়, অয়ত্নে হারিয়ে যেতে বসেছে সেন আমলের এক টুকরো ইতিহাস। মালদা শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে চণ্ডীপুরের দ্বারবাসী গ্রামে রয়েছে মা দুয়ারবাসিনীর মন্দির। বর্তমানে প্রাচীন মন্দির আর নেই। শুধুমাত্র ভেঙে পড়া প্রাচীন মন্দিরের একটি অংশ দাঁড়িয়ে রয়েছে ভগ্নদশায়। ভাঙা মন্দিরের গায়ে জন্মেছে একাধিক ছোটো-বড়ো গাছ থেকে আগাছা। গৌড়ীয় ইটে তৈরি মন্দির ও তার নকশা দেখে বোঝা যাচ্ছে, এই মন্দির সেই আমলের। প্রাচীন মন্দির ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে সেই মন্দিরের পাশে তৈরি করা হয়েছে একটি মন্দির। সেখানেই বসানো হয়েছে মায়ের পাথরের মূর্তি। স্থানীয় এক বৃদ্ধা গৌরী চক্রবর্তী নিয়মিত মন্দিরে পুজো করেন। মন্দিরে সেবাইতের কাজ করে তিনি মন্দির বাঁচানোর আপ্রাণ লড়াই চালিয়ে য়াচ্ছেন।

মালদার গৌড় ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী। সেন বংশের আমলেও গৌড় বাংলার রাজধানী ছিল। সেই বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেন গৌড়ের চার প্রান্তে চারটি চণ্ডীমন্দির তৈরি করেন। ইংরেজবাজারের চণ্ডীপুর দ্বারবাসী গ্রামের মা দুয়ারবাসিনী এর মধ্যে একটি। স্থানীয় ও জেলার বিশিষ্টরা দাবি করছেন, জেলার পর্যটন মানচিত্রে গৌড়ের সঙ্গেই জায়গা দিতে হবে দ্বারবাসিনী মন্দিরকে। এবিষয়ে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধান ড. হোসেন আরা খাতুন জানান, মালদা জেলার চারপাশে বহু ইতিহাস ছড়িয়ে আছে। অনেকগুলির সংস্কার হচ্ছে। আবার অনেকগুলি হচ্ছে না। মালদার অনেক ইতিহাস হারিয়ে গিয়েছে। দ্বারবাসিনী মন্দিরটির দিকে প্রশাসন ও আকির্ওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার নজর দেওয়া উচিত। এই মন্দির ঘিরে একটি পর্যটনকেন্দ্রও গড়ে উঠতে পারে। দেশ-বিদেশের বহু মানুষ এখন মালদা দেখতে আসছেন। এতে মালদা জেলার ক্ষেত্রে লাভও হচ্ছে।

- Advertisement -

বর্তমানে মন্দির চত্বরটি অযত্নে পড়ে রয়েছে। সেবাইতদের থাকার ঘর নেই। মন্দির প্রাঙ্গণে বিদ্যুতের সংযোগ নেই। মন্দিরের চারদিক খোলা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মন্দিরের সেবাইত মন্দিরে আলো ও অন্য সুবিধা চালুর দাবি জানাচ্ছেন। স্থানীয় কাজিগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সত্যজিৎ চৌধুরি বলেন, মন্দিরে আলোর ব্যবস্থা করার জন্য আমরা পঞ্চায়েতের তরফে চেষ্টা করছি। মন্দিরটি সংস্কারের জন্য আমি প্রশাসন ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার কাছে আবেদন জানাব।