দলে গুরুত্বহীন, লড়াইয়ের বাইরেই থাকতে চান আদি তৃণমূল কর্মীরা

140

হরিশ্চন্দ্রপুর: আর কয়েকদিন পরেই রাজ্যে দফায় দফায় শুরু হয়ে যাবে বিধানসভা নির্বাচন। শাসকদল তার পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে ইতিমধ্যে। অন্যান্য দল আংশিক তালিকা প্রকাশ করেছে। রাজ্যজুড়ে শাসক থেকে বিরোধী প্রচারের অঙ্গ হিসেবে শুরু হয়েছে নতুন স্লোগান ‘খেলা হবে’। কিন্তু ইতিমধ্যে হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে এই স্লোগান বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছে। দলের সক্রিয় এবং জন্মলগ্ন থেকে থাকা শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলে কোনও গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন। এমনকি তাঁদের আরও অভিযোগ, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পুরোনো এবং সক্রিয় কর্মীদেরকে সরিয়ে দিয়ে অন্য দল থেকে আসা দল বদলুদের ওপর বেশি ভরসা করছেন। তাই এলাকার শাসকদলের পুরোনো কর্মী-সমর্থকরা এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মাঠে নেমে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। উপরন্তু মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে খেলার পরিবর্তে হাততালি দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

পুরোনো কর্মীদের এমন সিদ্ধান্তে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের রক্তচাপ বাড়িয়েছে। ইতিমধ্যে হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা এলাকা শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দলে জর্জরিত। এলাকার বিভিন্ন নেতার অনুগামীদের এখনও সক্রিয়ভাবে শাসকদলের বিধানসভা পদপ্রার্থীর সমর্থনে সেরকমভাবে রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি।

- Advertisement -

ব্লক সভাপতি হারাধনচন্দ্র দাস ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমি দলের জন্মলগ্ন থেকে সদস্য। কিন্তু বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচনে ৪৫ নম্বর চাঁচল বলুন কিংবা ৪৬ নম্বর হরিশ্চন্দ্রপুর কোনও বিধানসভা নির্বাচনের কোনও কর্মসূচিতে আমাকে ডাকা হয়নি। কর্মসূচিগুলো হওয়ার পরে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পারছি। প্রার্থীরা কেউ পুরোনো কর্মীদের খোঁজ নেন না। জেলা থেকে ব্লক নেতৃত্ব সবাই আমাদের মতো পুরোনো সক্রিয় কর্মীদের মাঠের বাইরেও সরিয়ে দিয়েছেন। প্রার্থীরাও আমাদের কোনও কর্মসূচিতে এখন ডাকেন না। তাই হয়তো এবার মাঠে নেমে খেলা হবে না। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সৈনিক। আমরা মনে করি, দলের সমস্ত আসনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী। তাই আমরা সরাসরি মাঠে খেলতে না নামলেও বাইরে থেকে এবার উৎসাহ যোগাব।’ ক্ষোভ উগড়ে দিলেন প্রাক্তন ব্লক সভাপতি শিক্ষক হারাধনচন্দ্র দাস। তবে অন্য দলের যাওয়ার কোনও চিন্তাভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, দলের বর্তমান নেতৃত্বের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন সক্রিয় কর্মী তথা প্রাক্তন ব্লক সহ সভাপতি রুহুল আমিন। তিনি বলেন, ‘দিদি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস দলটা করছি। বর্তমানে সংগঠনে সক্রিয় কাজ করেও দলের তরফে সাংগঠনিক দায়িত্বে মর্যাদা পাই না। দলে এরকম চলতে থাকলে একদিন রাজনীতিতে সক্রিয় কর্মী ও নেতাদের মন মানসিকতা ভেঙে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে। রাজনীতিতে সক্রিয়রা গুরুত্ব পেলে অন্যান্যদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার উৎসাহিত করবে। কিন্তু বর্তমানে আমরা মাঠের বাইরে দর্শক হয়ে শুধু খেলা দেখব আর হাততালি দিতেই থাকব। দিদি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে প্রথম সারিতে খেলা খেলেছি। আজ আমরা দলের সমর্থিত দর্শক। তাই মাঠের বাইরে খুব হাততালি দেব।’

দলের জয় হিন্দ বাহিনীর জেলা সহ সভাপতি হামিদুর রহমানেরও একই অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন থেকে দলের সক্রিয় কর্মী। বর্তমানে পদে রয়েছি। কিন্তু নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরেও প্রার্থীর তরফে আমাকে কখনোই কোনও সভায় ডাকা হয়নি। প্রচারেও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। তাই ঠিক করেছি নিজের বুথের প্রচারটুকু শুধু করব।’

হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্রের শাসকদলের পদপ্রার্থী তজমল হোসেন বলেন, ‘আমরা সবাইকে প্রচারের জন্য ডাকছি। এখন ক্ষোভ বিক্ষোভের সময় নয়। দলের স্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য সবাইকে প্রচারে নামা উচিত।’

হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক সভাপতি মানিক দাস বলেন, ‘দলের কোনও সদস্যকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাও যদি কারও মান অভিমান থাকে, তবে আমি নিজে এ ব্যাপারটি নিয়ে সব কর্মীর সঙ্গে কথা বলব।’