পেনশনের টাকা নিলেও দেখতে নারাজ ছেলে,  অন্ধকারে দিন কাটছে মিলনদেবীর

474

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : স্বামী ছিলেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মী। প্রায় দশ বছর আগে তিনি প্রয়াত হন। স্বামীর মৃত্যুর পর নিয়মিত পেনশন পান স্ত্রী মিলন পণ্ডিত (৬৩)। পেনশন তোলেনও। কিন্তু ওই টাকা নাকি নিয়ে যান তাঁর ছোটো ছেলে। সারা মাস আর তাঁর খবর রাখেন না পরিবারের কেউ। তাই এখন অনাহারেই দিন কাটছে তাঁর। অবস্থা এতটাই খারাপ যে একটি পরিত্যক্ত, অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরে দিন কাটছে মিলনদেবীর। ঘরে কোনো বিছানা না থাকায় মেঝেতেই শুয়ে থাকেন বৃদ্ধা মিলনদেবী। গ্রামবাসী জানিয়েছেন, একজন বৃদ্ধা পরিবারের অবহেলায় যেভাবে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তা আর তাঁরা দেখতে পারছেন না। বরং তাঁকে কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।

আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন পশ্চিম জিত্পুরের পল্লিমঙ্গল ক্লাবের পাশেই বাড়ি বৃদ্ধা মিলন পণ্ডিতের। তাঁর স্বামী বিভূতিভষণ পণ্ডিত ভারতীয় বিমানবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। হাসিমারা বিমান ঘাঁটিতেই তাঁর পোস্টিং ছিল। চাকরি থেকে অবসরের পর জিত্পুর এলাকাতে তাঁরা বাড়ি করেন। এই বাড়িতেই অবসরের পর স্ত্রী, দুই ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন তাঁরা। প্রায় দশ বছর আগে  মারা যান বিভতিভষণবাবু। পরে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় একাই ওই বাড়িতে থাকতেন বৃদ্ধা মিলনদেবী। এখনও স্বামীর পেনশন পান তিনি। কিন্তু কোনো মাসের টাকাই তিনি রাখতে পারেন না। তাঁর ছোটো ছেলে এসে সব টাকাই নিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মিলনদেবীর স্বামী মারা যাবার পর তিনি পেনশনের টাকাতেই চলতেন। কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে তাঁর মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। তার পর থেকে কেউ তাঁকে দেখতে আসেন না। কিন্তু প্রতিমাসে তাঁর ছোটো ছেলে জ্যোতি পণ্ডিত এসে মিলনদেবীকে ব্যাংকে নিয়ে যান। পেনশনের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে ফের বৃদ্ধাকে বাড়িতে রেখে চলে যান বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা প্রবীর সরকার, ববিতা দত্তরায় প্রমুখ বলেন, ওই বৃদ্ধার বড়ো ছেলের মানসিক সমস্যা আছে। তিনি কোথায় থাকেন, কী করেন কেউ সঠিক জানেন না। ছোটো ছেলে হাসিমারায় থাকেন, কিন্তু মাকে দেখেন না। তাই প্রায় অভুক্ত অবস্থায় সারা মাস ঘরের মধ্যে পড়ে থাকেন বৃদ্ধা। পাড়াপড়শিরা মাঝেমধ্যে যা খাবার দেন তা খেয়ে বেঁচে আছেন তিনি।

- Advertisement -

মিলনদেবীর ছোটো ছেলে জ্যোতি পণ্ডিত বলেন, পাড়াপড়শিরা যে অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন। আসলে মা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাই তাঁকে একটি হোমে রেখে চিকিৎসা করানোর খোঁজখবর নিচ্ছি। ভালো জায়গা পেলে মাকে হোমে চিকিত্সা করাব। এদিকে, জিত্পুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেল ঘরের মেঝেতে একাই পড়ে আছেন মিলনদেবী। ঘরটির অবস্থা অস্বাস্থ্যকর। তাঁর এই অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে শুধু তিনি মাথা নাড়েন আর চোখ দিয়ে সমানে জল গড়িয়ে পড়ে। অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরের মতোই তাঁর ভবিষ্যতও অন্ধকারাচ্ছন্ন কিনা সেটাও তিনি জানেন কিনা তা কারও জানা নেই।