সিম ছাড়া ফোন ব্যবহার করেন সুশীল

নয়াদিল্লি : পালোয়ান হলেও বুদ্ধির অভাব নেই সুশীল কুমারের। সাগর ধনখড় হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তারকা কুস্তিগিরকে নিয়ে মূল্যায়ন তদন্তকারীদের। অন্যদিকে, বুধবার তাঁকে ১৪ দিনের জন্য জেল হেপাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

অলিম্পিকে জোড়া পদক জেতা সুশীলকে নিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছে, পুলিশের নাগাল এড়িয়ে লুকিয়ে থাকার সময় সিম ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছেন তিনি। ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে পরিবার ও সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। জেরায় সুশীল একথা জানিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ সুশীলের সঙ্গে দুষ্কৃতীদের যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত করছে। এক পুলিশ আধিকারিকের দাবি, দুসপ্তাহে ৭-৮টি জায়গায় লুকিয়েছিলেন সুশীল। এই সময়ে নিজের দুটি মোবাইল ও ঘটনার সময় পরে থাকা পোষাক ফেলে দেন তিনি। যদিও কোথায় সেগুলি ফেলেছেন তা নিয়ে মুখ খোলেননি সুশীল।

- Advertisement -

দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যে সুশীলকে নিয়ে চণ্ডীগড় ও হরিদ্বারে তদন্তে গিয়েছে। তাঁকে নিয়ে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে ঘটনাস্থলে গিয়ে খুনের পুনর্নিমাণও করা হয়েছে। তবে তিনি তদন্তে সাহায্য করছে না বলে পুলিশের দাবি। তাতে কোনও লাভ হবে না বলে মত এক পুলিশ আধিকারিকের। তাঁর বক্তব্য, সুশীলের সঙ্গী প্রিন্স রাজসাক্ষী হতে রাজি হয়েছে। আরেক অভিযুক্ত বিজেন্দর জানিয়েছে, ঘটনার সময় সুশীল তাদের প্ররোচনা দিয়েছিলেন। এমনকি তাঁর নির্দেশেই মারধরের ভিডিও রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে সুশীল অসহযোগিতা করলেও তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরও পথ আছে পুলিশের কাছে।

অন্যদিকে, বুধবার রোহিনির আদালতে সুশীলকে পেশ করে আরও ৩ দিনের জন্য হেপাজতে চায় পুলিশ। সরকারপক্ষের কৌসুলির দাবি, ঘটনার ভিডিওয় সুশীলের হাতে থাকা লাঠি সহ বেশ কিছু প্রমান এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাই সুশীলকে আরও তিনদিনের জন্য পুলিশ হেপাজতে পাঠানো হোক। যদিও পুলিশের আবেদনের বিরোধীতা করেন সুশীলের আইনজীবী। তাঁর দাবি, সুশীল দাগী অপরাধী নন এবং পরিস্থিতির শিকার। পাশাপাশি এই মামলায় অন্য অভিযুক্তদের জেল হেপাজতে পাঠানো হয়েছে। তাই সুশীলকে পুলিশ হেপাজতে রাখার প্রয়োজন নেই।