সুশীলের গ্রেপ্তারে ক্ষতির শঙ্কা ক্রীড়াবিদদের

নয়াদিল্লি : বড়সড় শরীরটা জাতীয় পতাকায় ঢাকা পড়ত একসময়। সেই মানুষটা তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢাকতে ব্যস্ত ছিলেন। যে হাত একসময় অলিম্পিক মেডেল এনেছে, সেই হাতে এখন হাতকড়া।

১৭ দিনের লুকোচুরি শেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন কুস্তিগির সুশীল কুমার। ২৩ বছরের তরুণ কুস্তিগির সাগর ধনখড় হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত তিনি। তাঁর গ্রেপ্তারির ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত ভারতীয় ক্রীড়া জগত্। ২০০৮ সালে বেজিং অলিম্পিকে পদক জিতে একসঙ্গে প্রচারের আলোয় এসেছিলেন সুশীল ও বক্সার বিজেন্দর সিং। ৩৭ বছরের কুস্তিগিরের গ্রেপ্তারি ঘটনায় বিজেন্দরের বক্তব্য, ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের মধ্যে সুশীলের নাম প্রথম সারিতে উচ্চারিত হয়। সাফল্য ওর হয়ে কথা বলে। এখন আমি এটুকুই বলতে পারি। বিষয়টি আরও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। এখন এর থেকে বেশি কিছু বলতে চাইছি না।

- Advertisement -

দেশের প্রথমসারীর কয়েকজন ক্রীড়াবিদ অবশ্য এখনই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি নন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তারকা কুস্তিগিরের বক্তব্য, সুশীল গ্রেপ্তার হলেও দোষী কি না তা তদন্তের পর বোঝা যাবে। তবে এই ঘটনা ভারতীয় ক্রীড়ার উপর ধাক্কা। আপাতত তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষা করব। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রথমসারির এক শাটলার অবশ্য মনে করছেন, নতুনদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষতও পূরণ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ভারতীয় কুস্তির উপর সুশীলের গ্রেপ্তারির প্রভাব পড়বে। কারণ ও এই খেলার অন্যতম বড় নাম। তবে দীর্ঘমেয়াদি ভাবে দেখলে তেমন ক্ষতি হবে না। এদেশে ক্রিকেট গড়পেটার কালো অধ্যায় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

সুশীলকে নিয়ে নাটক অবশ্য তাঁর গ্রেপ্তারির সময় নিয়েও রয়েছে। ৪ মে সাগর খুনের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। তারপরই উধাও হয়ে যান। শনিবার রাতের দিকে জানা যায়, পঞ্জাব পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন বেজিং ও লন্ডন অলিম্পিকে পদকজয়ী এই ক্রীড়াবিদ। তবে রবিবার দিল্লি পুলিশ দাবি করে, তাদের স্পেশাল সেল রাজধানীর মুন্ডকা এলাকা থেকে সুশীল ও তাঁর সঙ্গী অজয় কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিন আদালতে পেশ করা হলে বিচারক সুশীলকে ৬ দিনের জন্য পুলিশ হেপাজতে পাঠান।