জলপাইগুড়িতে হারা ম্যাচ জেতার আশায় ওমপ্রকাশ

148

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : খবরের চ্যানেলের টক শো বা প্যানেল আলোচনায় তাঁকে সবাই তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক যুক্তি এবং তথ্যের মারপ্যাঁচে মারকুটে মেজাজে খেলতে দেখেছেন। তাঁরা একটু অবাকই হতে পারেন, সিডনি টেস্টে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা হনুমা বিহারীর মতো ডাক করতে, ডিফেন্সিভ ভঙ্গিতে তাঁকে খেলতে দেখে।জলপাইগুড়িতে অনেকদিন ধরে পড়ে থাকা ওমপ্রকাশ মিশ্রের কথা বলা হচ্ছে। জেলায় ঘাসফুল ফোটাতে আপাতত মাটি কামড়ে লড়াই করার ছকেই এগোচ্ছেন দলের পর্যবেক্ষক ওমপ্রকাশ। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে অধ্যাপনা এবং কংগ্রেসে কাজ করার পর ২০১৯-এর সেপ্টেম্বরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। গত বছর ডিসেম্বরে জলপাইগুড়ি জেলায় দলীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে জেলায় এসে ঘাঁটি গেড়েছেন তিনি। কী বলছেন দল বদল করে জলপাইগুড়ি আসা ওমপ্রকাশ? তাঁর বিশ্লেষণ, দশ বছর আগের আর এখনকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক। ওঁর কনফিডেন্স লেভেল এখন অনেক উঁচুতে। সারা রাজ্যের কর্মীদের মধ্যে সেটাই নতুন উৎসাহের জোগান দিচ্ছে। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরছে আর সেটা ২০০ আসনের বেশি নিয়ে।

ইতিমধ্যেই জেলায় অন্তত একশোখানা দলীয় সভা ও কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বোঝাপড়া এবং সক্রিয়তা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। জেলায় দলের ভিতরের দ্বন্দ্ব মেটাতে একটানা ১৪ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকও করতে হয়েছে তাঁকে। এই লাগাতার চেষ্টায় ব্লক, অঞ্চল ও বুথস্তরে বেশ কিছুটা সমস্যা মেটানো গিয়েছে বলেই খবর তৃণমূলের অন্দরে। দলের এক জেলা নেতার কথায়, আমাদের দলে পড়ে থেকে কাজ করার লোক বরাবরই কম। সেদিক দিয়ে দেখলে উনি বিদগ্ধ এবং অভিজ্ঞ মানুষ হিসেবে পয়েন্ট ধরে ধরে আলোচনা করছেন এবং শাখা সংগঠনের সক্রিয়তা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছেন। ভোট পর্যন্ত এভাবে পড়ে থেকে কাজ করলে অবশ্যই ভালো হবে। জেলার তৃণমূল নেতাদের কাছে জানা গেল, ইতিমধ্যেই জেলায় দলকে জেতাতে ছয় দফা ছক কষে দিয়েছেন অধ্যাপক। কী করছেন? নেপালি ও রাজবংশী ভোট ফেরাতে রাজ্য সরকারের কর্মসূচিকে সামনে রেখে প্রচার। চা বাগানের জন্যে মুখ্যমন্ত্রী যা করছেন বা করেছেন তাকে ঘিরে প্রচার। সিপিএম এবং কংগ্রেসের পক্ষে থাকা সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের দিকে টেনে আনা। কিন্তু চোরাস্রোত তো তাঁর বিরুদ্ধেই রয়েছে।

- Advertisement -

দলীয় নেত্রীর প্রেরিত পর্যবেক্ষক সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে দাবি জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণীর। ওমপ্রকাশ জেলায় দলের পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করায় কোনও লাভ হবে কি না সে প্রশ্নের জবাবে জেলা তৃণমূল সভাপতি বলেন, আমি তো ওঁর কোনও  মিটিংয়ে যাইনি। উনি নিজের মতো এসেছেন ঘুরেছেন। তাতে দলের লাভ হল কি না আমি কী করে বলব? ওমপ্রকাশকে পাত্তা দিতে নারাজ বিরোধী বিজেপিও। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি অলোক চক্রবর্তী বলেন, বাস্তব রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ওঁর কোনও ধারণা নেই। উনি একেবারেই টিভি নেতা। জলপাইগুড়ি জেলার সাতটি আসনেই তৃণমূল হারতে চলেছে আর সেটা উনি কেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে পড়ে থাকলেও বদলাবে না।
তবু হারা ম্যাচ বাঁচাতে লড়ছেন ওমপ্রকাশ।