বর্ষবরণের দিনে ‘নো এন্ট্রি’ দক্ষিণেশ্বরে

168

কলকাতা: বর্ষবরণের দিন দর্শন হবে না মা ভবতারিণীর। করোনা পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নিল দক্ষিণেশ্বর মন্দির কমিটি। প্রতিবছর ১ জানুয়ারি দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর ভিড় হয়। আগের রাত থেকেই ভক্তদের দীর্ঘ লাইন পড়ে। এবছর করোনা পরিস্থিতিতে ১ জানুয়ারি দর্শনার্থীদের জন্য দক্ষিণেশ্বর মন্দির বন্ধ রাখা হবে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কঠিন হয়ে যাবে। তাই সকলের সুরক্ষার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কল্পতরু উৎসবে পঞ্চবটীকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মেলাও বসে। ভক্তদের জন্য ভোর থেকেই মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়।

বছরের প্রথম দিন বহু মানুষ মায়ের কাছে পুজো দেন। গর্ভগৃহ দর্শন হয়ে যায়। তাই প্রতি বছর ১ জানুয়ারির ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের সম্পাদক কুশল চৌধুরী জানিয়েছেন, ১ জানুয়ারি কল্পতরু উৎসব। ওই দিনে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ মন্দিরে আসেন। মন্দিরের সামনে থেকে বালি ব্রিজ পেরিয়ে উত্তরপাড়া, সিঁথির মোড়, কামারহাটি পর্যন্ত পুজো দেওয়ার লম্বা লাইন পড়ে। করোনা পরিস্থিতিতে এবার সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাই আমরা ১ জানুয়ারি দর্শনার্থীদের জন্য দক্ষিণেশ্বর মন্দির সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

- Advertisement -

তবে মন্দিরের ভিতরে পুজো ও হোম হবে। আগামী বছর কাশীপুর উদ্যানবাটিতে কল্পতরু উৎসব পালন করা হবে না। সাধারণত কাশীপুর উদ্যানবাটি  সকাল ৯টা থেকে ১১ এবং বেলা সাড়ে তিনটে থেকে সন্ধে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ১ থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত কাশীপুর উদ্যানবাটিতে কোনও ভক্তকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। স্বামী পরেশাত্মানন্দ জানিয়েছেন, শ্রীরামকৃষ্ণ এবং সারদা দেবীর কুটিরে অনুষ্ঠান হবে। সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ভক্তিমূলক গান-সহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তবে কোনও পুণ্যার্থী সামনে থেকে অনুষ্ঠান দেখতে পাবেন না। সেক্ষেত্রে কাশীপুর উদ্যানবাটির নিজস্ব অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলে সে সময় নজর রাখলে অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার দেখতে পাবেন পুণ্যার্থীরা।