বাংলা বছরের শেষ দিনে চড়কে মাতলেন উত্তরবঙ্গবাসী

158
রায়গঞ্জ

রায়গঞ্জ: বাংলা বছরের শেষ দিনে অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তিতে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ জুড়ে চড়ক পুজো অনুষ্ঠিত হয়। উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেও একই দৃশ্য লক্ষ্য করা গেল। চৈত্র সংক্রান্তির ঠিক আগের দিন গভীর রাতে প্রায় প্রত্যেক শ্মশানে এই পুজোর কাজকর্ম শুরু হয়। আয়োজকরা চৈত্র সংক্রান্তির আগের রাতে একত্রিত হয়ে শিবের পুজোয় মেতে ওঠেন। রায়গঞ্জ শহরের কুলিক নদী সংলগ্ন বন্দর শ্মশান, খরমুজাঘাট শ্মশান, কলেজপাড়ার অরবিন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠ, নেতাজিপল্লীর বিপিএল ক্লাবের মাঠ এই সমস্ত জায়গায় পুজো হয়। রাত দেড়টার সময় শ্মশানে গিয়ে দেখা গেল আট থেকে আশি বছর বয়সি অনেকেই শিব, পার্বতী, চন্ডাল, নন্দী, ভৃঙ্গী সেজে পুজোয় বসেছেন। কচুরিপানায় পরিপূর্ণ কুলিক নদীর তীরে সন্ন্যাসীদের বিভিন্ন দল পুজো, তন্ত্র সাধনা করেছেন। আয়োজকদের তরফে জানানো হল, এটা হিন্দু সংস্কৃতির ঐতিহ্য। দীর্ঘ অনেক বছর ধরে তারা এই নিয়ম রীতিনীতি পালন করে আসছেন এবং আগামীতেও করবেন।

বাংলা বছরের শেষ দিনে চড়কে মাতলেন উত্তরবঙ্গবাসী| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
পুরাতন মালদা

পুরাতন মালদা: করোনা আবহের মধ্যেও শুরু হল চড়ক উৎসব। গতবছর লকডাউনের জেরে এই চড়ক উৎসবে জৌলুস ছিল না। তবে, এবার করোনা সংক্রমনের প্রভাব মারাত্মকভাবে থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে চড়ক মেলা এবং উৎসব। পুরাতন মালদা পুরসভা এলাকায় চৈত্র মাসের সংক্রান্তিতে বাচামারি এলাকায় উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তেরা। প্রায় ৬৯ বছরের পুরোনো এই চড়ক পুজো প্রতি বছর চৈত্র মাসের শেষে পালিত হয়। বিভিন্ন দেব-দেবী রূপে সেজে রাস্তায় বের হয় বহু ভক্ত। শোভাযাত্রার পাশাপাশি চরক কাঠে মধ্যে নিজেদেরকে শূলবিদ্ধ করে ঘোরেন অনেক ভক্তরা। পাশাপাশি এই উৎসবকে ঘিরে শিব, পার্বতীর পুজো হচ্ছে ধুমধাম করে। এবারে এই চড়ক পুজো উৎসবকে ঘিরে মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

- Advertisement -

বামনগোলা: চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক পুজোয় মাতল বামনগোলা-হবিবপুর। চড়ক ঘোরানোকে কেন্দ্র করে নালাগোলা, পাকুয়াহাট, হবিবপুর, বুলবুলচণ্ডী সহ বিভিন্ন এলাকায় বসে মেলাও। মূলত বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব হলেও সকল ধর্মের মানুষজনের সমাগমে এই অনুষ্ঠান লোক উৎসবে জমজমাট হয়ে সম্প্রীতির মিলন মেলায় পরিণত হয় এই চড়ক মেলা। এদিন জলাশয়ে রাখা চড়ক গাছকে পান বাটা দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারপর চড়ক গাছ তুলে এনে মাটিতে পুঁতে চড়কের মাথায় বিশেষ পদ্ধতিতে বাঁশ ও দড়ি বেঁধে চড়ক ঘোরানো হয়। তার আগে নিয়ম মতো পুজো হয়।

বাংলা বছরের শেষ দিনে চড়কে মাতলেন উত্তরবঙ্গবাসী| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

চৈত্র মাসের শেষ দিনে চড়ক পুজো দিয়ে চড়ক ঘোরানো হলেও নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে প্রায় এক মাস আগে থেকে এর প্রস্তুতি চলে। চৈত্র মাসের প্রথম দিন থেকেই বেশ কিছু মানুষজন সন্ন্যাস ব্রত পালন করেন। এসময় সারাদিন উপবাস থেকে রাতে নিরামিষ আহার গ্রহণ সহ নানা কঠিন সংযম পালন করতে হয়। চড়ক পুজোর কদিন আগে থেকেই হর-পার্বতী, শিব-কালী সহ বিভিন্ন দেব দেবীর সাজে ঢাক বাজিয়ে গ্রামগঞ্জে ঘুরে গাজন পালন করা হয়। চৈত্রের শেষ দিনে চড়ক গাছের পুজো দিয়ে সন্ন্যাস ব্রত পালনকারীদের একজনের পিঠে লোহার বড়শি ফুঁরে চড়কের এক প্রান্তে ঝুলিয়ে ঘোরানো হয়। উদোক্তাদের মতে চড়ক ঘোরানো হয় দেব দেবীদের সন্তুষ্ট করে সকলের মঙ্গল কামনায়।