বিশ্ব জল দিবসে কুলিক থাকল আবর্জনায় পূর্ণ, ক্ষোভ

90

রায়গঞ্জ: আজ বিশ্ব জল দিবস। পরিশুদ্ধ জল সম্পদগুলির পরিচালনার জন্য একটি সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে প্রতি বছর ২২ মার্চ বিশ্ব জল দিবস পালিত হয়। রায়গঞ্জ শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুলিকে ভেসে বেড়াচ্ছে আবর্জনা। কোথাও জমে রয়েছে নোংরা আবর্জনার স্তুপ। ফলে দূষণ ছড়িয়েছে নদী ও নদী সংলগ্ন এলাকায়। নদীর নোংরা আবর্জনার মধ্যে এলাকার বাসিন্দারা স্নান সহ অন্যান্য দৈনন্দিন কাজকর্ম সারছেন। নদীতে পড়ে রয়েছে মরা পশু পাখি, বিসর্জন দেওয়া প্রতিমা, দোকান ও বাড়ির নোংরা আবর্জনা। নদীর এক পাড়ের কাঞ্চনপল্লী, বন্দর এবং অন্য পাড়ের সুভাষগঞ্জের বাসিন্দারা নদীর উপর নির্ভরশীল।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, নজরদারির পাশাপাশি সচেতনতার অভাবে নদীতে দূষণ বেড়েই চলেছে। আগে মাঝেমধ্যে পুরসভা নদীর ঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করলেও এখন আর করে না। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে কুলিক নদী ও সংলগ্ন এলাকায় দূষণ ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরে সচেতনতা অভিযান চালাচ্ছে বিভিন্ন পরিবেশ ও পশুপ্রেমি সংগঠন।

- Advertisement -

গৃহবধু মিনতিদেবী জানান, নদীর পাশে দীর্ঘদিন ধরে নোংরা আবর্জনা জমে আছে। পুরসভার কর্মীদের বললেও তাঁরা পরিষ্কার করে না। সেতুর ওপর থেকে অনেকে নদীতে বাড়ির পুরোনো প্রতিমা, বাড়ির ও দোকানের নোংরা, মরা পশু পাখি ফেলায় সেগুলি জমে স্তুপাকার নিয়েছে। চারিদিকে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘অনেক প্রতিবাদ করেও লাভ হয় না। কয়েকটি পরিবেশপ্রেমি সংস্থা বেশ কিছুদিন নজরদারি চালালেও এখন আর দেখা যায় না।’

রায়গঞ্জ পুরসভার ২২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তপন দাস জানান, নদী  পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদের নয়।কিন্ত আমাদের পুরসভার কর্মীরা নদীঘাট পরিস্কার রাখার চেষ্টা করে।আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করি। প্রকৃতিপ্রেমি সংগঠন হিমটার সভাপতি কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা বেশ কয়েকবার নদী পরিষ্কার করার পাশাপাশি, এলাকার মানুষকে সচেতন করেছি। সরকার থেকে নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি অভিযান না চালালে শুধুমাত্র সচেতনতা করলে লাভ হবে না এবং নদী ও সংলগ্ন এলাকায় দূষণ রোখা সম্ভব হবে না।

রায়গঞ্জ পিপলস ফর অ্যানিম্যালসের সম্পাদক অজয় সাহা বলেন, ‘নদী ও সংলগ্ন এলাকায় দূষণ বাড়তে থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য ও বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হবে। নদী দূষণের জেরে মাছ, শ্যাওলা ও বিভিন্ন জলজ পোকার অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে। আমরা কুলিককে দূষণ মুক্ত করতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করেছি।’

রায়গঞ্জ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তথা এলাকার কাউন্সিলর অরিন্দম সরকার বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো কুলিকের ঘাটগুলি পরিষ্কার রাখি। তবে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। কুলিকের জল কমে যাওয়ায় এখনও কিছু আবর্জনা জমেছে, আবার জল বাড়লে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। কুলিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার মতো রায়গঞ্জ পুরসভার সামর্থ্য নেই। পুরসভা বিক্রি করলেও করা যাবে না। তবে আমরা কর্মীদের দিয়ে ঘাটগুলি পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি।’