বর্ধমান আদালতের ল’ক্লার্ককে অপহরণ করে মুক্তিপণের দাবি, গ্রেপ্তার অপহরণকারী

175

বর্ধমান, ২১ অগাস্টঃ বর্ধমান আদালতের ল’ক্লার্ককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। অবশ্য পুলিশ ইতিমধ্যেই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করল। ধৃত মিরাজ আলি শেখ ওরফে শেখ সবুজ পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার বরিশালি গ্রামের বাসিন্দা। জেলার মাধবডিহি থানার পুলিশ শুক্রবার তার নিজের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার দেখানো এলাকার একটি মাটির বাড়ি থেকে অপহৃত ল’ক্লার্ককে উদ্ধার করে। পুলিশ ধৃতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে। শনিবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে।

ল’ক্লার্কের গোপন জবানবন্দি এদিন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নথিভুক্ত করানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে ৭ দিন পুলিশি হেপাজতে নিতে চেয়ে, আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। আদালতের সিজেএম ধৃতকে ৪ দিনের পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবীন ল’ক্লার্ক জগন্নাথ কুন্ডুর মাধবডিহি থানার বিনোদপুরের বাসিন্দা। তাঁর বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ শেখ সবুজ যায়। একটি বিয়ের রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সবুজ জগন্নাথ বাবুকে অনুরোধ করে। জগন্নাথবাবু তাতে রাজি হয়ে যান৷ সেই কাজের জন্য তিনি সবুজের বাইকে চেপে বর্ধমানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। তারপর তিনি আর বাড়ি ফেরেন না।

- Advertisement -

এরপরই পরিবারের লোকজন দুশ্চিন্তা এবং সন্দেহ হয়। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ জগন্নাথ বাবুর বাড়ির মোবাইলে একটি ফোন আসে। জগন্নাথ বাবুকে যে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে, তা ফোনেই জানানো হয়। একইসঙ্গে, ফোনে বলা হয় জগন্নাথ বাবুকে মুক্ত করতে হলে, ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে পরিবারের কাউকে বর্ধমান শহরের কার্জন গেট এলাকায় আসতে হবে। বিষয়টি পুলিশকে জানালে, জগন্নাথ বাবুকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। মুক্তিপণ চেয়ে এমন ফোন আসার পরই, জগন্নাথবাবুর পুত্রবধূ বৈশাখী কুন্ডু মাধবডিহি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে, মোবাইল টাওয়ারের সূত্র ধরে পুলিশ অপহরণকারী শেখ সবুজকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়।