কোচবিহারে ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার এক

295

জামালদহ: কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের উছলপুকুরিতে ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের কাছে খুনের অভিযোগ দায়ের হল। মৃতার এক নিকটাত্মীয় বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচজনের নামে মেখলিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

প্রণয়ঘটিত সম্পর্কের অবনতির জেরে ওই তরুণীকে শ্বাসরোধ করে মেরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় উছলপুকুরি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাতেই মহঃ রাজা ওরফে সাহানুর আলম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

- Advertisement -

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ উছলপুকুরির পচার মোড় এলাকার একটি পুকুর থেকে বছর উনিশের এক তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ওই পুকুর খেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বেই মৃতার বাড়ি। প্রথমে এটি আত্মহত্যার মত অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা মনে হলেও, রাতে থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের হওয়ায় ঘটনাটি অন্য মাত্রা পায়।

ধৃত যুবক সাহানুর আলমকে শুক্রবার মেখলিগঞ্জ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ৬ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ১২০ বি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

অভিযোগে প্রকাশ, মৃত তরুণীর সঙ্গে মেখলিগঞ্জ ব্লকেরই নিজতরফ এলাকার যুবক মহঃ রাজা ওরফে সাহানুর আলমের দীর্ঘদিন ধরে প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকবার সহবাস হয় বলেও পুলিশের কাছে মৃতার বাড়ির লোকজন জানিয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি রাজা অন্যত্র বিয়ে করার জন্য তোড়জোড় শুরু করেন। আর এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ওই তরুণী।

তারপরই বৃহস্পতিবার পুকুর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। ঘটনার একদিন পরেও শুক্রবার এলাকার পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। বুধবার রাতেই বাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে এনে শ্বাসরোধ করে খুন করে তাঁর দেহ পুকুরে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় রাজা সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মেখলিগঞ্জ থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে।

পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এ ব্যাপারে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ অবশ্য তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ্যে এখনই কিছু জানাতে নারাজ।