তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি খুনের ঘটনায় সিআইডি-র জালে লিংকম্যান

173

বর্ধমান, ২২ অগাস্টঃ তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতিকে খুনের ঘটনায় এবার এক লিংকম্যানকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের লাখুড়িয়া অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অসীম দাসকে খুনের ঘটনায় ধৃত লিংকম্যানের নাম রিপন শেখ। তার বাড়ি মঙ্গলকোটের সীতাহাটি গ্রামে। সে বর্ধমান রেলস্টেশন থেকে ট্রেন ধরে ভিন রাজ্যে পালানোর ছক কষেছিল। সেই খবর পেয়ে সিআইডি-র প্রতিনিধি দল শনিবার রাতে বর্ধমান রেল স্টেশন সংলগ্ন নবাবহাট এলাকা থেকে রিপন শেখকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার ধৃতকে কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের বিচারক ধৃতকে ৮ দিনের সিআইডি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলকোটের সিউর গ্রামে লাখুড়িয়া অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি অসীম দাসের বাড়ি। গত ১২ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তিনি যখন কাসেমনগর বাজার থেকে বাইকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন দুষ্কৃতীরা তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করে। প্রথমে ‘সিট’ গঠন করে পুলিশ এই খুনের ঘটনার তদন্ত শুরু করে। পরে, রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশে তদন্তভার সিআইডি নিজেদের হাতে নেয়। এরপর সিআইডি-র জালে সাবুল শেখ, সামু শেখ ও রফিকুল শেখের মতো অভিযুক্তরা একের পর এক ধরা পড়তে থাকে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি কর্তারা জানতে পারেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতিকে খুনের মাস্টারমাইণ্ড বালি মাফিয়া রাজু শেখ।

- Advertisement -

রাজুর আদি বাড়ি বীরভূম জেলার নানুর থানা এলাকার সিদাই গ্রামে। তবে, ৪ বছর ধরে সে মঙ্গলকোটের মল্লিকপুর গ্রামে থেকে অবৈধ বালির কারবার চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি আসীম দাসের কাছে অবৈধ বালি কারবারে সে বাধা পায়। এরপর সে সুপারি কিলারকে দিয়ে তাঁকে খুন করায়। এরপর থেকেই গা ঢাকা দিয়ে ছিল শেখ রাজু।

দিন কয়েক আগে সিআইডি দিল্লি থেকে শেখ রাজুকে গ্রেপ্তার করে। তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে মঙ্গলকোটে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি সুপারি কিলার শেখ বাবলুর হদিশ পায়। কয়েকদিন আগে সিআইডি সুপারি কিলার শেখ বাবলুকে গ্রেপ্তার করে। তাকে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ লিংকম্যান রিপন শেখের নাম জানতে পারে। শনিবার রাতে রিপন সিআইডির জালে ধরা পড়ে।

সিআইডি সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি অসীম দাসকে খুনের ঘটনায় মূল লিংকম্যান হিসাবে কাজ করেছিল এবারে ধৃত রিপন শেখ। সে খুনের কাজে শ্যুটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিল। একইসঙ্গে, অসীম দাসের গতিবিধির ওপর নজর রাখার দায়িত্বও পালন করেছিল। খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শেখ রাজুর ডান হাত হিসাবে রিপন শেখ কাজ করত বলে জানতে পেরেছেন সিআইডি-র কর্তারা।