কাতলামারি গুলিকাণ্ডে গ্রেপ্তার ১, চরমে রাজনৈতিক তরজা

102

হরিশ্চন্দ্রপুর: কাতলামারি গ্রামে গুলি চালানোর ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করল হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ধৃতের নাম রেজাউল করিম (২১)। শনিবার ধৃতকে চাঁচল মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালত ধৃতকে পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয়কুমার দাস।

সম্প্রতি এলাকা দখল ঘিরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সেই সময় সেখানে গুলি চলে বলে অভিযোগ। গুলি লেগে জখম হন একপক্ষের দু’জন। এরপরই পালটা হামলা চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নামানো হয় র‍্যাফ। ওই এলাকার চারজনকে আটক করে পুলিশ।

- Advertisement -

এই ঘটনার পরই হরিশ্চন্দ্রপুরে প্রকাশ্যে আসে শাসক-বিরোধী তরজা। কংগ্রেস, বিজেপি সহ অন্য বিরোধী দলের অভিযোগ, মালিওর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত দখল ঘিরে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ওই পঞ্চায়েতে চারজন তৃণমূলের সদস্য ছিলেন। বাকিরা ছিলেন সিপিএম এবং কংগ্রেসের। কিন্তু সম্প্রতি সিপিএম ও কংগ্রেসের পাঁচজন সদস্য শাসকদলে যোগ দেন। এরপরই ওই গ্রাম পঞ্চায়েত শাসকদলের দখলে চলে আসে। প্রধানের দাবিদার কে হবে, তা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

প্রাক্তন বিধায়ক মোস্তাক আলম জানান, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি রূপেশ আগারওয়ালের দাবি, কাতলামারি দুষ্কৃতীদের আখড়ায় পরিণত করেছে শাসকদল। সামনে পঞ্চায়েত ভোট। তাই এলাকায় অশান্তি বাড়াতে চাইছে শাসকদল।

যদিও এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলেছেন তৃণমূলের হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক সভাপতি হজরত আলি। তাঁর দাবি, গুলি চালানোর ঘটনায় আক্রান্ত গোষ্ঠীর লোক তাঁদের দলের সদস্য। কিন্তু যে বা যারা এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তারা কংগ্রেসের সদস্য। গত বিধানসভা ভোটের সময়ে এরা বিজেপির হয়েও কাজ করেছে। সব মিলিয়ে কাতলামারি গুলিকাণ্ডে এখন রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে।