স্মার্টফোনে জুয়া, ওয়ান ডিজিটের বেপরোয়া কারবার শিলিগুড়িতে

87

সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি : বিনা পরিশ্রমে ফাটকা কামাইয়ের আশায় শিলিগুড়িতে ফের চলছে রমরমিয়ে ওয়ান ডিজিট। শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্মার্টফোনের মাধ্যমেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই কারবার চলছে। প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার এই জুয়া খেলে হেরে গিয়ে ঘরে ফিরছেন সাধারণ মানুষ। শিলিগুড়ি শহরের ফুলেশ্বরী বাজার, ডাবগ্রাম মাতৃসদন এলাকা, ডাবগ্রামে রামের মোড়, টাউন স্টেশন সংলগ্ন এলাকা, শিলিগুড়ি কলেজ সংলগ্ন এলাকা, রথখোলা বাজার সহ বিভিন্ন বাজারে চলছে এই কারবার।

রিকশাচালক থেকে শুরু করে দিনমজুররাই এই জুয়ায় বেশি মাতছেন। বিষয়টি নিয়ে ডাবগ্রামের বাসিন্দা প্রলয় সরকার বলেন, বাজারে এভাবে জুয়া চললে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষরা এতে বেশি ঝুঁকছেন। পুলিশ প্রশাসনের উচিত বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করা। পুলিশের চোখে ধুলো দিতেই ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের বদলে স্মার্টফোনে চলছে জুয়ার কারবার। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ির সাইবার থানার এক কর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনও অভিযোগ মেলেনি। আমরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেব। কেউ পুলিশের কাছে এসে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে ভালো হয়।

- Advertisement -

দীর্ঘদিন ধরেই শিলিগুড়িতে ওয়ান ডিজিট নামে অনলাইন জুয়ার রমরমা কারবার চলছে। আগে ছোট ছোট দোকানঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে কম্পিউটার বসিয়ে এই অনলাইন লটারির কারবার চললেও বর্তমানে সেই পরিকাঠামো নেই। শুধু ফোনে ফোনেই এই খেলা চলছে। শিলিগুড়ি শহরজুড়ে একটি চক্র এই জুয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং এদের হয়ে বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় এজেন্টরা কাজ করছে। এই এজেন্টদের কাজ হচ্ছে স্থানীয়দের মগজধোলাই করে এই জুয়ায় নিয়ে আসা। শহরের ফুলেশ্বরী, জলেশ্বরী, আশিঘর, ঘোগোমালি বাজার, নরেশ মোড়, নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন এলাকা সহ ইস্টার্ন বাইপাসের বিভিন্ন জায়গায় এই চক্রের এজেন্টরা রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত ১০-১২ বার এই খেলা হয়। এজেন্টকে শুধু ফোন করে ডিজিট বলতে হবে। সেই জুয়াড়ির নাম এবং সে যে কয়েকটি ডিজিট বলছে, সেগুলি নিজের খাতায় লিখে নেয় এজেন্ট। সে সেগুলি পাঠিয়ে দেয় সিকিমের এই জুয়া পরিচালকদের কাছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, যে তিন-চারটি কোম্পানি এই জুয়া চালাচ্ছে তাদের প্রত্যেকটিই সিকিম থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। প্রতিদিন এক-একজন ৮-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত এই জুয়ায় হেরে বাড়ি ফিরছেন বলে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে রিকশাচালক, দৈনিক মজদুরের পাশাপাশি বেকার যুবক এবং ছোট ব্যবসাযীরাও এই জুয়ায় মেতেছেন। প্রত্যেকটি এলাকাতেই সপ্তাহে কোনও একদিন কেউ ৫,০০০ টাকা জিতছেন তো ওই এলাকা থেকেই জুয়াড়িরা ৫০ হাজার টাকা হেরে যাচ্ছে। পুরোটাই পরিকল্পনামাফিক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।