তিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বে একজন চিকিৎসক

কৌশিক সরকার, দিনহাটা : একজন চিকিৎসক পালা করে সামলাচ্ছেন তিন-তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ওই তিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রত্যেকটিতে সপ্তাহে দুদিন করে উপস্থিত থেকে কোনও রকমে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন ওই চিকিৎসক। দিনহাটা-২ ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে,  চিকিৎসক না পাওয়ায় এই অবস্থা হয়েছে। দিনহাটা-২ ব্লকে বামনহাটে ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র সহ পাঁচটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও একটি দাতব্য চিকিৎসালয় রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র চার। তার মধ্যে বামনহাটে রয়েছেন একজন বিএমওএইচ সহ দুজন, নাজিরহাটে একজন। আর বাকি একজন সামাল দিচ্ছেন তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অন্য একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্তমানে কোনও চিকিৎসকই নেই। এই অবস্থা দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে বলে অভিযোগ। এপ্রসঙ্গে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক কেশব রায় বলেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকার বিষয়টি বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। সম্প্রতি এই ব্লকের জন্য একজন চিকিৎসককে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনও কাজে যোগ দেননি।

ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে কিশামত দশগ্রাম ও থরাইখানা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং দিঘলটারি দাতব্য চিকিৎসালয়ে কোনও স্থায়ী চিকিৎসক নেই। একজন চিকিৎসককে সপ্তাহে দুদিন করে ওই তিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। কিশামত দশগ্রামের বাসিন্দা রবি বর্মন বলেন, সোমবার ও বুধবার ডাক্তারবাবু আসেন। আমরা ওই দুটো দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকি। অন্যদিন সমস্যা হলে ১৫ কিলোমিটার দূরে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে যেতে হয়। এতে প্রচুর খরচ এবং ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভবেন রায়, মনমোহন বর্মন, চঞ্চল বর্মন প্রমুখ জানান, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে স্থায়ী চিকিৎসক নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরের বহু ঘরবাড়ি পোড়ো বাড়ির চেহারা নিয়েছে। এই ব্লকের কুর্শাহাটের বাসিন্দাদের অভিযোগ, থরাইখানা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থায়ী চিকিৎসক নেই। স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলি বলেন, সপ্তাহে দুদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য চিকিৎসকের দেখা মেলে। ফলে বেশিরভাগ সময়ই এলাকার সিংহভাগ মানুষকে স্থানীয় ওষুধের দোকানিদের ওপর ভরসা করে চলতে হচ্ছে।

- Advertisement -

নাজিরহাটের দিঘলটারি দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্রেও স্থায়ী চিকিৎসক নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোচবিহারের রাজ আমলের এই চিকিৎসালয়টির ওপর বহু মানুষ নির্ভরশীল। সকলের পক্ষে শহরে এসে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। তাই ব্লকের বাসিন্দাদের একটা অংশ এখনও স্বাস্থ্য সমস্যায় তাবিজ-কবজ, তুকতাকের মতো কুসংস্কারের দিকে ঝুঁকে পড়তে বাধ্য হন বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্লকের নয়ারহাট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চলছে চিকিৎসক ছাড়াই। বর্তমানে এই ব্লকের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় পৌনে তিন লক্ষ মানুষের জন্য চিকিৎসকের সংখ্যাটা যে অপ্রতুল তা স্বীকার করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে শুরু করে রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্যরাও। ব্লকের রোগীকল্যাণ সমিতির সভাপতি ও বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন, গোটা রাজ্যেই চিকিৎসকের সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যা কাটাতে বর্তমান রাজ্য সরকার অনেক নতুন মেডিকেল কলেজ করেছে। সেগুলো থেকে চিকিৎসক বেরোনো শুরু হলেই সমস্যা মিটে যাবে। প্রায় একই সুরে স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিকও বলেন, আশা করছি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চিকিৎসক না থাকার সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে।