রাস্তায় বসে মোবাইলে মগ্ন, পিষে দিল গাড়ি

196

বীরপাড়া: রাতে পাকা রাস্তায় বসে মোবাইলে মজে ছিলেন তিন বন্ধু। তিনজনেরই বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তীব্র গতিতে ছুটে আসা ছোটো গাড়ির ধাক্কায় ছিটকে গেলেন তিনজনই। তাঁদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে একজনের। বাকি দু’জন শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। বীরপাড়া থানার অন্তর্গত ভুটান সীমান্তবর্তী লঙ্কাপাড়ায় রবিবার রাত ন’টা নাগাদ এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বীরপাড়ার দিক থেকে লঙ্কাপাড়া ফেরা গাড়িটির হেডলাইট নেভানো ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, গাড়িচালক নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তবে এভাবে রাস্তায় বসে মোবাইলে মজে যাওয়াটাও ওই তিনজনের উচিত হয়নি বলেই একবাক্যে মানছেন তাঁরা।

দুর্ঘটনায় মৃতের নাম ঈশ্বর তামাং (১৯)। পেশায় তিনি পরিযায়ী শ্রমিক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি কেরলে শ্রমিকের কাজ করতেন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কেরল থেকে বাড়ি ফেরেন তিনি ও তাঁর সঙ্গী আকাশ। সারাদিনের দাবদাহে নাজেহাল হওয়ায় ওই দু’জন এদিন রাতে তাঁদের বন্ধু জুবেশের সঙ্গে লঙ্কাপাড়া চা বাগানের প্রতিমন লাইনে পাকা রাস্তার ওপর বসে আড্ডা দিতে দিতে মোবাইলে মগ্ন হয়ে পড়েন। গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম হলে তিনজনকেই বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে শিলিগুড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় ঈশ্বরের।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর বেশ কিছুক্ষণ গাড়িটিকে সেখানেই আটকে রাখেন তাঁরা। গাড়িটি লঙ্কাপাড়া এলাকারই এক বাসিন্দার বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় যুবক শরণ লামা বলেন, ‘হয়তো তাঁরা স্যোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা গেম খেলায় বুঁদ হয়ে পড়েছিলেন। তবে গাড়ির হেডলাইট জ্বললে হয়তো দুর্ঘটনাটি ঘটত না। অবশ্য রাস্তায় বসা ওদেরও উচিৎ হয়নি।’

বীরপাড়া থানার ওসি বিরাজ মুখোপাধ্যায় সোমবার বিকেলে বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে গাড়ি ও চালককে এখনও আটক করা সম্ভব হয়নি।’ লঙ্কাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিনেশ রাই বলেন, ‘এলাকার বর্তমান প্রজন্মের মোবাইল ফোনে আসক্তি বেড়েই চলেছে। এর পরিণতি হচ্ছে মারাত্মক। রবিবার রাতে ফের তা প্রমাণিত হল।’