পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু এক পরিযায়ী শ্রমিকের

327

সামসী: পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক পরিযায়ী শ্রমিকের। রবিবার সন্ধ্যাবেলা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে কেরালায়। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম আহমদ হোসেন ওরফে কালু (৫৮)। তাঁর গ্রামের বাড়ি রতুয়া-১ ব্লকের চাঁদমুনি-১ জিপির মাটিয়ারি গ্রামে। পারিবারিক অভাব ঘোচানোর জন্য কেরালায় রাজ মিস্ত্রির কাজে গিয়েছিলেন তিনি।চাঁদমুনি-১ জিপির মাটিয়ারি গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য ইলিয়াস আলি বলেন, ‘গত এক বছর আগে মাটিয়ারি গ্রামের বাসিন্দা আহমদ হোসেন ওরফে কালু কেরালায় যান। সেখানে সে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। লকডাউনে বাড়ি ফেরেন নি। পরিবারের লোকজন তাঁকে একবছর থেকে কেউই দেখেন নি। শুধু ফোনে কথা হত নিয়মিত। তিনি বলেন, কালু রবিবার কাজ থেকে বাসায় ফিরে এসে সন্ধ্যাবেলা মা গরিবের নমাজ পড়তে যান পাশের একটি মসজিদে। নমাজ শেষ করে মসজিদ থেকে ফিরছিলেন তিনি। সে সময় পেছন দিক থেকে একটি গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে তাঁকে। ঘটনাস্থলেই কালু সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই সে মারা যান।

পঞ্চায়েত সদস্য ইলিয়াস আলি আরও বলেন, সোমবার কালুর করোনা টেস্ট হয়েছে। মঙ্গলবার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। তবে বৃহস্পতিবার নাগাদ দেহ ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ইলিয়াস সাহেব। মৃত শ্রমিকের পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আহমদ হোসেন ওরফে কালু একটানা একবছর ধরে কেরালায় রয়েছেন। লকডাউনেও বাড়িতে ফেরেননি। তাঁর তিন ছেলে, দুই মেয়ে। বর্তমানে তিন ছেলেই ভিন রাজ্যে রয়েছে। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিন ছেলেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন থাকে দিল্লিতে। আর দুই ছেলে এক সঙ্গে রয়েছে ব্যাঙ্গালোরে। এক মেয়ে সাহানারা খাতুন(১৮) দ্বাদশ ও এক মেয়ে আর্জিনা খাতুন (১৪) অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশুনা করে খাঁপুর হাই মাদ্রাসায়। একমাত্র বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন ছাড়া বাকিরা সকলেই অবিবাহিত।

- Advertisement -

মৃত পরিযায়ী শ্রমিক আহমদ হোসেন ওরফে কালুর স্ত্রীর নাম আনোয়ারা বিবি। অকালে স্বামীকে হারিয়ে চরম অসহায় সে। চোখের জল মুছতে মুছতে আনোয়ারা জানান, দীর্ঘ একবছর থেকে স্বামীর সঙ্গে দেখা হয়নি। ফোনে বলেছিল আর কিছুদিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরবেন। বাড়ি ফিরেই বড় মেয়ে সাহানারার বিয়ে দিত ধুমধাম করে। কিন্তু সেটা আর হলনা। এভাবে যে মারা যাবেন তাঁর স্বামী তা কখনও ভাবেননি তিনি। স্বামীর অবর্তমানে সংসার কিভাবে চলবে এনিয়ে বড়ই চিন্তায় রয়েছেন আনোয়ারা বিবি। কেননা মাঠে জমি জায়গা নেই তেমন। কয়েক কাঠা ভিটে বাড়ি টুকুই সম্বল ছিল আহমদ হোসেন ওরফে কালুর। সারাবছর ভিন রাজ্যেই খেটেই কোনও রকম সংসার চলত। চাঁদমুনি-১ জিপির প্রধান রবিউল ইসলাম বলেন, পঞ্চায়েতের তরফ থেকে মৃত শ্রমিক কালুর পরিবারকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে। রতুয়া-১ বিডিও সারওয়ার আলি বলেন, মৃত শ্রমিকের অসহায় পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সাহায্য করা হবে।