রায়গঞ্জে পুলিশকর্মীর বাড়িতে ঢুকে গুলি, আরও এক জখমের মৃত্যু

180

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জে পুলিশকর্মীর বাড়িতে ঢুকে গুলি চালানোর ঘাটনায় আরও একজনের মৃত্যু হল। গুলিবিদ্ধ হয়ে জখম অবস্থায় টানা ২০ দিন লড়াই করে শেষপর্যন্ত মৃত্যু হল প্রাক্তন পুলিশকর্তার ছোট মেয়ে রুপা অধিকারীর। শুক্রবার রাতে মালদার ঝলঝলিয়ার শ্বশুরবাড়িতে মৃত্যু হয় তাঁর। এদিন রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার মহম্মদ সানা আখতার বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অপারেশন করা হয় রুপা অধিকারীর। তারপর তাঁকে মালদার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল রাতে মারা যান তিনি।’

এদিন মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে রায়গঞ্জের দেবীনগরের বাড়িতে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা নিখিলকৃষ্ণ মজুমদার। নিখিলবাবুর আক্ষেপ, ‘মেয়ে বলেছিল পুজোতে ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যাবে। কই মেয়ে তো এল না। তাহলে কি আমার দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে?’ বাড়ির দুই পরিচারিকা সরস্বতী বিশ্বাস ও চন্দনা রায় পালা করে দেখভাল করছেন শোকার্ত বৃদ্ধ ওই পুলিশকর্তার। তাঁদের বক্তব্য, এখনও বৃদ্ধ পর্যন্ত জানেন না যে তাঁর দুই মেয়েরই মৃত্যু হয়েছে। বৃদ্ধের ছেলে তথা পুলিশকর্মী সুজয়কৃষ্ণ মজুমদারও গুলিবিদ্ধ হয়ে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারে কেউ না থাকায় প্রতিবেশীর বাড়ি থেকেই প্রতিদিন দুই পরিচারিকার খরচ মেটানো হচ্ছে। ওই বৃদ্ধ পুলিশকর্তার প্রতিদিনের বাজার খরচও প্রতিবেশীরাই বহন করছেন।

- Advertisement -

গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে রায়গঞ্জের দেবীনগরের প্রাক্তন পুলিশকর্তা নিখিল মজুমদারের বাড়িতে ঢুকে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে তাঁদেরই একসময়ের ভাড়াটে বিএসএফ কর্মী শীতল রায় ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। গুলিতে জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নিখিলকৃষ্ণ মজুমদারের বড় মেয়ে দেবী সান্যালের। পরবর্তীতে ছোট মেয়েকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আর ছেলেকে কলকাতায় রেফার করা হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে শীতল রায়, তাঁর স্ত্রী, শ্যালক ও বোন জয়শ্রী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে।