রাজ্যে ফের করোনা আক্রান্ত চিকিৎসকের মৃত্যু

1032

বর্ধমান: করোনা অতিমারির মধ্যেও রোগীদের স্বার্থে পঞ্চায়েত অফিসের চেম্বারে নিয়মিত হাজির থাকতেন তিনি। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর-২ পঞ্চায়েতের চিকিৎসক অনুপকুমার ঘোষ করোনার বলি হলেন। পঞ্চায়েতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা শেষ করে তিনি এক একদিন পৌঁছে যেতেন এক একটি গ্রামে। সেখানকার সাধারণ মানুষজনকে তিনি করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবার উপায় বাতলাতেন। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শও দিতেন। কিন্ত চিকিৎসক অনুপ ঘোষও শেষপর্যন্ত রেহাই পেলেন না করোনার থাবা থেকে। করোনা তাঁরও প্রাণ কেড়ে নিল।

বর্ধমানের গাংপুরের কোভিড হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। করোনা যোদ্ধা অনুপ ঘোষের অকাল মৃত্যুতে জামালপুরবাসীর পাশাপাশি শোকস্তব্ধ চিকিৎসক মহল। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসক অনুপ ঘোষের আদি বাড়ি জামালপুর ব্লকের আঝাপুর পঞ্চায়েতের ভেড়িলি গ্রামে। বর্তমানে তিনি বর্ধমান শহরের বাড়িতে সপরিবার বসবাস করতেন। পঞ্চাশোর্ধ অনুপবাবু দীর্ঘদিন ধরে জামালপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মেডিকেল অফিসার (এইচএমও) পদে দায়িত্ব সামলে আসছিলেন।

- Advertisement -

জামালপুর ব্লক স্বাস্থকেন্দ্রের বিএমওএইচ চিকিৎসক আনন্দমোহন গড়াই বলেন, অনুপ ঘোষ কিছুদিন যাবৎ অসুস্থতা বোধ করছিলেন। কিন্তু তিনি পরিবারের লোকজন বা পঞ্চায়েত কর্মী কাউকেই কিছু জানাননি। বুধবার বর্ধমানের কোভিড পরিক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে তিনি পরীক্ষা করান। রিপোর্ট পজিটিভ আসলে তিনি আতঙ্কে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিনই অনুপবাবুকে বর্ধমানের গাংপুরের একটি কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মারা যান। করোনা ধরা পড়ায় আতঙ্কেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে মনে করছেন সহকর্মীরা।

বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, করোনা নিয়ে সাধারণ মানুষজনের মধ্যে সচেতনতা জাগানোর কাজে চিকিৎসক অনুপ ঘোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। করোনা অতিমারির মধ্যেও পঞ্চায়েত অফিসের চেম্বারে রোগী দেখা সেরে তিনি গ্রামে গ্রামে যেতেন। প্রশাসনের সহযোগী হিসাবে তিনি সেখানকার সাধারণ মানুষজনকে করোনা নিয়ে সচেতন করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বার্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে এমন এক করোনা যোদ্ধার মৃত্যু সত্যিই দুঃখের।