করোনা উপসর্গ নিয়ে ফের মৃত্যু, আতঙ্ক রায়গঞ্জে

367

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: ফের করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। প্রবল জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের আইসোলেশন বিভাগে ভর্তি হন মঙ্গলবার সকালে। কিছুক্ষণ চিকিৎসার পর মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের। হাসপাতাল সূত্রে জানা খবর, মৃত ওই বৃদ্ধ বন্দরবাজার এলাকায় কলার ব্যবসা করতেন। তাঁর বাড়ি রায়গঞ্জ শহরের পশ্চিম বীরনগর এলাকায়।

মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, লালার নমুনা নেওয়া হয়েছে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃতদেহ দেওয়া যাবে না। মৃতের ছেলে শুভজিৎ সাহা বলেন, ‘বাবার আইসোলেশন বিভাগে মৃত্যু হয়েছে। টেস্ট নেগেটিভ হলে মৃতদেহ তুলে দেবে। এদিন উত্তর দিনাজপুর জেলায় আরও ৬০ করোনা আক্রান্তের খবর মিলেছে। তাদের মধ্যে ইসলামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এক ফার্মাসিস্ট রয়েছেন।

- Advertisement -

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ৬০ করোনা আক্রান্তের মধ্যে রায়গঞ্জ শহরের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ম্যানেজারসহ ৮ ব্যাংককর্মী রয়েছেন। দিন তিনেক আগে জ্বরের উপসর্গ নিয়ে ম্যানেজারসহ ব্যাংক কর্মীরা হাসপাতালে ফিভার ক্লিনিকে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের লালা পরীক্ষার জন্য পাঠান। এদিন সকালে রিপোর্ট আসতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। বর্তমানে তাদেরকে হেমতাবাদ সারি হাসপাতলে ভর্তি করাাা হয়েছে।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, ‘হাসপাতালে ল্যাবে ৬০টি রিপোর্ট জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, ‘রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতালে জায়গা নেই সেই কারণে কর্ণজোড়া ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের ফাঁকা ঘরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া হেমতাবাদের সারি হাসপাতলে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ রায়গঞ্জ শহরের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এদিন সিল করেছে কর্তৃপক্ষ। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সিসিইউ বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেলেও মুখে কুলুপ এঁটেছেন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

রায়গঞ্জ থানার এক মহিলা পুলিশ আধিকারিক করোনা আক্রান্ত হয়ে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল মর্গের এক স্বাস্থকর্মী করোনা আক্রান্ত হলেও এখনও পর্যন্ত বাড়িতেই রয়েছেন বলে অভিযোগ। এছাড়া মর্গের ৩ জন স্থায়ী কর্মী ও চারজন অস্থায়ী কর্মীর করোনা উপসর্গ থাকলেও এখনও পর্যন্ত লালার নমুনা পরীক্ষা করেনি বলে অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের বক্তব্য, এদের দ্বারাই সংক্রামিত হবে অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। দ্রুত লালার নমুনা পরীক্ষা করা উচিত।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনা আক্রান্ত ওই মহিলা পুলিশ অফিসার রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের মর্গের দায়িত্ব সামলাতো। অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করার ক্ষেত্রে ওই মহিলা পুলিশ অফিসারই মর্গে যাতায়াত করতেন। তার ফলেই সংক্রামিত হয়েছেন তিনি। এমনটাই দাবি চিকিৎসকদের। এদিকে রায়গঞ্জের কর্ণজোড়া ফাঁড়ির অন্তর্গত ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের নতুন ভবনে ‘সেফ হোম’ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে আপাতত ৫০ শয্যা রয়েছে। প্রয়োজনে তা বাড়ানো হতে পারে। এদিন থেকে তা চালু হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ৬০ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে ৪২ জন উপসর্গহীন।

উপসর্গহীন রোগীদের ‘সেফ হোমে’ ভর্তি করানো হয়। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সিসিইউ ও ডায়ালিসিস বিভাগ আপাতত বন্ধ রয়েছে। সিসিইউ বিভাগে আক্রান্ত ১০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে কোভিড হাসপাতালের বদলে হেমতাবাদের সারি হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, সময় মতো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না অনেক ওষুধ অমিল। আমরা সমস্ত বিষয় মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ ও সিসিইউ বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শ্যামশ্রী চাকিকে জানিয়েছি। স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন,”বিষয়টি আমি জেনেছি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’