আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধৃত ১, শোরগোল বৈষ্ণবনগরের রাজনৈতিক মহলে

128

বৈষ্ণবনগর: পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির অপসারণ ঘিরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত বৈষ্ণবনগর। এই পরিস্থিতিতে আগ্নেয়াস্ত্র সহ বিপুল পরিমাণ ধারাল অস্ত্র উদ্ধার করল বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ। ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত নাম চরিঅনন্তপুর গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা চিরঞ্জিত ঘোষ। মঙ্গলবার তাকে মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হয়।

কালিয়াচক-৩ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শাহনাজ বেগমের বিরুদ্ধে অনাস্থা পেশ হতেই প্রকাশ্যে আসে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। সূত্রের খবর, সভাপতিকে বহাল রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালায় বৈষ্ণবনগরের বিধায়ক চন্দনা সরকার ও তাঁর স্বামী বাচ্চু সরকারের গোষ্ঠী। অপরদিকে সভাপতিকে পদচ্যুত করতে প্রয়াস শুরু করে বৈষ্ণবনগরের ব্লক সভাপতি দুর্গেশচন্দ্র সরকার গোষ্ঠী। এনিয়ে দু’পক্ষের বাকবিতণ্ডা চলছিল শুরু থেকেই। ঘটনার প্রেক্ষিতে তলবি সভায় ঝামেলা হতে পারে বলে কোনোঘুষো শুরু হয়। স্বাভাবিকভাবেই সোমবার তলবি সভাকে ঘিরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার বন্দোবস্ত ছিল বিডিও অফিস চত্বরে। জানা যায়, সভা শুরুর কিছু সময় বাদে বিডিও অফিস চত্বরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি চার চাকার গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ বিপুল সংখ্যক ধারাল অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। ঘটনায় ওই গাড়িতে থাকা এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। বৈষ্ণবনগর থানার আইসি নিম শেরিং ভুটিয়া জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে।

- Advertisement -

বিধায়ক চন্দনা সরকার বলেন, ‘বৈষ্ণবনগরে ব্লক সভাপতি দুর্গেশচন্দ্র সরকার বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে এসেছেন। বিষয়টি জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি।’ অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি দুর্গেশচন্দ্র সরকার বলেন, ‘বিজেপির কোনও সহযোগিতা নেওয়া হয়নি। সোমবার যারা তলবি সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন সকলেই তৃণমূলের সদস্য। দীর্ঘদিন আগেই তাঁরা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।’

অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি গোবিন্দচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘অস্ত্রশস্ত্র ছাড়া তৃণমূল নেতারা দল চালাতে পারবে না। গোটা রাজ্যটাকেই অস্ত্রের কারখানা বানিয়ে ফেলেছে তৃণমূল। তাই তলবি সভাকে ঘিরে রক্তপাত ঘটানোর জন্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গিয়েছিল তৃণমূল নেতারা।’