নদীর ভাঙনে সেতুর মুখে ধস, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

293

দেবাশিষ দত্ত, পারডুবি: মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের পারডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতের মিস্রিরডাঙ্গা কালামনির ঘাট এলাকায় শনিবার সেতুর মুখে ধস নামায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটানা কয়েকদিনের বৃষ্টির জের দোলং নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় নদীর পাড়ভাঙন অব্যাহত। এর জেরে এলাকায় বেশকিছু জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পথে। অবিলম্বে বাঁধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পাশাপাশি এদিন ওই এলাকায় কালামনির ঘাট দোলং সেতুর ধারে ধস নেমে বিরাট গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ধস নামার ফলে স্থানীয়রা বাঁশ বেঁধে দেন। এর জের কার্যত শিলডাঙ্গা, দোলংয়ের কুঠি ও এগারোমাইল সহ বেশকিছু গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় ২৪-২৫ বছর আগে কোচবিহার জেলা পরিষদের উদ্যোগে এলাকায় দোলং সেতুটি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তেমন সংস্কার না হওয়ায় সেতুর রেলিংয়ের বেশকিছু অংশে ফাটলেরও দেখা দিয়েছে। এদিন সেতুর মুখে ধস নেমে বিরাট গর্তের সৃষ্টি হওয়াতে পাঁকা রাস্তার বেশকিছু অংশ তলিয়ে গিয়েছে। এলাকায় খুব শীঘ্রই বাঁধ তৈরি ও সেতুটি মেরামত না করলে যেকোনও সময়েই বড়সড় বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। শীঘ্রই পাড়বাঁধ তৈরি ও ধসে যাওয়া অংশ মেরামতের দাবি জানিয়ে এদিন সরব হন স্থানীয়রা।

- Advertisement -

নদীর পাড়ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় কৃষকরাও। তাঁরা জানান, কালামনির ঘাট এলাকায় ইতিমধ্যেই কয়েক বিঘে জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। শীঘ্রই এলাকায় পাড়বাঁধ তৈরি করা না হলে আরও বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বাসিন্দাদের। দ্রুত ভাঙন রোধ না করা হলে গোটা গ্রাম নদীগর্ভে চলে যাবে বলে আশঙ্কা বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুর মুখে ধসের বিষয়টি তাঁরা স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য আনন্দ দে’কে জানান। এদিন দুপুরে তড়িঘড়ি শ্রমিক লাগিয়ে আপাতত সেতুর মুখে ধসে যাওয়া অংশে বস্তায় বালি পাথর ভরাট করে তাপ্পি দেওয়ার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য আনন্দ দে বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আপাতত শ্রমিক লাগিয়ে সেতুটির মুখে ধসে যাওয়া অংশে মেরামত করছি। এলাকায় পাড়বাঁধ তৈরি ও সেতুটির মুখে বসে যাওয়া অংশ মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অশোক বর্মন বলেন, ‘আপাতত গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে মেরামত করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে পরিপূর্ণ সংস্কারের জন্য।

কোচবিহার জেলা সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক জয়ন্ত ভৌমিক জানান, ওই এলাকায় সেচ দপ্তরের তরফে শীঘ্রই পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আনপ্রোটেকটেড এলাকায় যাতে স্থানীয় ও ব্লক প্রশাসনের তরফে আপাতত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ এলেই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে।

কোচবিহার জেলা পূর্ত ও সড়ক বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জ্যোতির্ময় মজুমদার বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’