বাড়িতে মদ্যপানের পার্টি করতে বাঁধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ছুরি নিয়ে মারতে গিয়ে, সেই ছুরির আঘাতে প্রাণ গেল স্বামীর

579

ফাঁসিদেওয়া, ১৫ জুনঃ বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করে মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে বচসা। রাগে স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে গিয়ে, সেই ছুরির আঘাতে স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। রবিবার গভীর রাতে ফাঁসিদেওয়া ব্লকের জালাস নিজাম তারা গ্রাম পঞ্চায়েতের কাশিরাম সংসদে ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় যুবককে ওই রাতেই উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই যুবকের মৃত্যু হয়। মৃতের নাম মহম্মদ জিয়ারুল (২৮)। সোমবার সেখানেই মৃতদেহ ময়নাতদন্তের করা হয়েছে। এদিন বিকেলে পুলিশ পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দিয়েছে। এদিকে, সোমবার মাটিগাড়া থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মৃতের পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রের খবর, কাশিরামের বাসিন্দা জিয়ারুলের সঙ্গে চটহাটের দুধখোয়াগছের বাসিন্দা সহিদা খাতুনের ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের ৮ বছরে মেয়ে এবং ৪ বছরের ছেলে রয়েছে। রবিবার ছুটির দিন থাকায় জিয়ারুল কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে বাড়িতে পার্টি করেন। বাড়িত বন্ধুদের নিয়ে মদ্যপানের পার্টি বসানোর জেরে স্ত্রীর সঙ্গে বচসা বাঁধে। এরপর রাগে বাড়িতে থাকা একটি গাড়ির কাঁচ ওই যুবক ঘুষি দিয়ে ভেঙে ফেলেন। এরপর সেই বিষয়ে যুবকে বাবাকে অভিযোগ জানানোর জন্য স্ত্রী সাহিদা যাওয়ার সময় জিয়ারুল বাঁধা দেয়। কিন্তু, সেই সময় আরও রেগে গিয়ে রান্নাঘর থেকে সবজি কাটার ছুরি নিয়ে স্ত্রীকে মারতে ছুঁটে যান। রাতে বৃষ্টির কারণে রাস্তার জমা জলে পা পিছলে যুবক পরে যান। খবর পেয়ে এদিন যুবকের বাড়িতে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ তদন্তের জন্য গিয়েছিলেন।

- Advertisement -

মৃতের ভাই সাদ্দাম হোসেন, স্থানীয় মহম্মদ হাবিব রহমান, মুহম্মদ বাবুল জানিয়েছেন, তখনই যুবকের পেটের ডানদিকে ছুরি ঢুকে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেই জিয়ারুলের মৃত্যু হয়। মৃতের স্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কোনও সংসারিক অশান্তি ছিল না। ওই রাতে বাড়িতে মদ্যপানের পার্টি করা নিয়ে তিনি বাঁধা দেন। তখনই সমস্যার সূত্রপাত হয়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানিয়েছেন, মদ্যপ অবস্থায় হুঁশ হারিয়ে স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে মারতে যান। তখনই পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে, ছুরি যুবকের নিজের পেটে ঢুকে গিয়েছিল। তবে, খবর লেখা পর্যন্ত ফাঁসিদেওয়া থানায় এনিয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।