করোনা আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী, কোয়ারান্টিনে ৬ চিকিৎসক সহ ৫৫ জন

299

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: বার্নপুর আইএসপি বা ইস্কো হাসপাতাল থেকে এক করোনা আক্রান্ত রোগীকে কলকাতায় পাঠানোর পর সেখানে তার মৃত্যু হয়। এরপর নতুন করে আরও একজনের লালা পরীক্ষার রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। এই দুটি ঘটনার পর দুই পর্যায়ে ইস্কো হাসপাতালের ডিরেক্টর অফ হেলথ সার্ভিস সহ ৬ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী সহ ৫৫ জনকে হোম কোয়ারান্টিনে পাঠানো হল। শুধু তাই নয়, এই হাসপাতালে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য দুটি ওয়ার্ড ও আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা। বলতে গেলে বাকি প্রায় সবই বন্ধ এই হাসপাতালে।

করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় ওটি বা অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রাখা হচ্ছে। হাসপাতালের আইসিসিইউকে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। সেখানে করোনা সন্দেহ রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে। যারা হাসপাতালে আসছেন, তাদের বেশিরভাগকেই রেফার করে দেওয়া হচ্ছে।

- Advertisement -

বার্ণপুর ইস্কো কারখানায় বর্তমানে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার কর্মী রয়েছেন। অফিসারদের সংখ্যা কমবেশি ১ হাজার ২০০-র মত। ওইসব কর্মী ও অফিসার এবং তাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আর এক ডিরেক্টর ডাঃ সঞ্জয় চৌধুরী বলেন, ৫৫ জনকে কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে ৬ জন চিকিৎসক রয়েছেন। আরও একজন চিকিৎসক করোনা পজিটিভ রোগীর চিকিৎসা করছিলেন তাকে কোয়ারান্টিনে পাঠানোর কথা চলছে।

অন্যদিকে, বুধবার আসানসোল জেলা হাসপাতালে লালার নমুনা পরীক্ষার পর ৭ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। স্বাস্থ্য দপ্তর ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, একজন হাসপাতালের আইসোলেশান ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। বাকি ৬ জন হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন। এই ৭ জন আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এই ৭ জনকেই দূর্গাপুরের কোভিড ১৯ হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেছে।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে আসানসোল জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এক মহিলা কর্মীর লালার পরীক্ষার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। ঠিকাদারের অধীনে ওই মহিলা কর্মী আউটডোরে চিকিৎসকের চেম্বারে বসতেন। তার বাড়ি আসানসোলের এসবি গরাই রোডের হিলভিউ এলাকায়।