হিলি দিয়ে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে পেঁয়াজ

সুবীর মহন্ত, হিলি : রপ্তানি বন্ধ। বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া। ভারতেও পেঁয়াজের দাম নেহাত কম নয়। এই সুযোগে হিলিতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাচালান। হিলি সীমান্ত দিয়ে গোরু, নিষিদ্ধ সিরাপ, ড্রাগস, গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট, বেবিফুড ইত্যাদির পাশাপাশি এবার পেঁয়াজেরও রমরমা পাচার চলছে। হিলির সীমান্ত গ্রামগুলি দিয়ে বিএসএফের নজর এড়িয়ে প্রতিদিন কুইন্টাল কুইন্টাল পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ব্যাপক লাভের আশায় অবৈধ পথে বাংলাদেশে পেঁয়াজ পাচারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ২৫২ কিমি এলাকা দুড়ে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। সীমান্তের প্রায় সর্বত্র কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হলেও হিলি সীমান্তের প্রায় ২৬ কিমি এলাকায় এখনও কাঁটাতারের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। যার জেরে থেকে গিয়েছে উন্মুক্ত সীমান্ত। সেই উন্মুক্ত সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে চলছে চোরাচালান। হিলি সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে বিএসএফের ১৯৯, ১৮০ ও ১৩৭ নম্বর ব্যাটেলিয়ন। এর সঙ্গে রয়েছে বিএসএফের গোয়েন্দা সংস্থা সহ হিলি থানার পুলিশ। কিন্তু নিরাপত্তার কড়া নজর এড়িয়ে চলছে ব্যাপক চোরাচালান। সম্প্রতি ভারত সরকার দেশে পেঁয়াজের জোগান স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে। এরপর থেকেই হিলি সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে পেঁয়াজের চোরাচালান শুরু করেছে। প্রতিদিন কয়েক লরি পেঁয়াজ নানা কায়দায় চোরাপথে পাচার হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে।

- Advertisement -

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলাদেশে পেঁয়াজ পাচারের জন্য হিলির বাজারে পেঁয়াজের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হিলি সীমান্তের গোবিন্দপুর, শ্রীকৃষ্ণপুর, জামালপুর, ডুমরন, চক গোপাল এলাকা দিয়ে দেদারে চলছে চোরাচালান। ভারতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৩ টাকা দরে কিনে কাঁটাতারের ওপারে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করছে চোরাকারবারিরা। প্রতিদিন হিলির ত্রিমোহিনীতে বসছে পেঁয়াজের অস্থায়ী বাজার। প্রতি সকালেই লরি লরি পেঁয়াজ পেঁছে যাচ্ছে হিলিতে। এরপর সেগুলি অস্থায়ী বাজারে নামছে। সেখান থেকে কয়েক কেজি করে ব্যাগে ভরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সীমান্তে। ক্যারিয়ারদের মাধ্যমেই মূলত এই পাচার চলছে। এখনই পাচারে রাশ না টানলে ভারতীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়বে বলে মত ব্যবসায়ীদের।

এই পাচার সম্পর্কে বিএসএফ বা পুলিশ কিছুই জানে না বলে বিশ্বাস করে না এলাকাবাসী। বরং তাদের মতে, এই পাচারকর্ম নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে পাচারকারীদের গোপন আঁতাতের ফল। এরই সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই কাজ করছে। পাচারের ফলে যেভাবে সীমান্ত উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে, তাতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ। তবে এই পাচার নিয়ে বিএসএফ বা পুলিশের তরফে কেউই মুখ খুলতে চায়নি।