রাজ্যে প্রথম, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদে চালু ‘ই অনুমতি’ পোর্টাল

73

আসানসোল: রাজ্যের মধ্যে প্রথম আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ বা আড্ডা এমন সরকারি সংস্থা যারা ‘ই অনুমতি’ পোর্টাল চালু করল। আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শনিবার থেকে এই পোর্টাল চালু করা হল। এর উদ্বোধন করে আড্ডার চেয়ারম্যান তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্যে যত উন্নয়ন পর্ষদগুলির মধ্যে আমরাই প্রথম নাগরিকদের সুবিধার জন্য ‘ই অনুমতি’ পোর্টাল শুরু করলাম।’

পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে ঘরবাড়ি থেকে কলকারখানা যাঁরা তৈরি করেন তাঁদের আড্ডার কাছ থেকেও অনুমতি নিতে হয়। এই সংস্থার নো অবজেকশান সার্টিফিকেট বা এনওসি ছাড়া কোনও নির্মাণকাজ হয় না। সেই অনুমতি নিতে গিয়ে অনেক নথি যোগাড় করে সেগুলো আড্ডায় জমা দিতে হবে। তেমনি সেইসব কিছু পরীক্ষা করতেও অনেক সময় চলে যেত। তাপসবাবু বলেন, ‘আমরা সমস্ত দিক ভেবে এই কাজে সরলীকরণ ও স্বচ্ছতা আনতে ‘ই অনুমতি’ চালু করলাম। এর ফলে অফিসে এসে নথি করে মানুষকে জমা দিয়ে সময় নষ্ট করতে হবে না।’

- Advertisement -

এই নিয়ে আড্ডার সিইও বা মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক নীতিন সিংঘানিয়া বলেন, ‘এবার অনুমতি পত্রের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনের আবেদনের সব যদি ঠিকঠাক থাকে তাহলে আবেদনকারীর কাছে ডিমান্ড নোট যাবে। তা জমা দিলেই ৭ থেকে ১২ দিনের মধ্যে অনুমতি পত্র দেওয়া হবে। অনলাইনেই আবেদনকারীকে শুনানির বিষয়টি জানানো হবে। শুধু তাই নয়, কারোর যদি জমা করা কাগজে কোনওরকম ভুল থাকে সেক্ষেত্রে তাকে এসএমএসে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।’

আসানসোল ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বণিকসভাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিল যে, তাদের জমি, নির্মাণ কাজ সংক্রান্ত বিষয়ে কারখানা ও শিল্প সংস্থায় বা ব্যবসা ক্ষেত্রে অনুমতি নিতে গেলে প্রচুর নথি লাগে। তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। কখনও কখনও তা ছয় মাস, আট মাস পর্যন্ত হত বলে অভিযোগ উঠত। নতুন এই ব্যবস্থায় ১০-১২ দিনের মধ্যে ‘ই অনুমতি’ পত্র মেলার যে সুযোগ চালু হল তার জন্য অবশ্যই আড্ডা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।

আসানসোলের বণিকসভা শম্ভুনাথ ঝা, দক্ষিণবঙ্গ বণিকসভার সুব্রত দত্ত, জামুরিয়া বনিকসভা অজয় খৈতান ও রানিগঞ্জ বনিকসভার সন্দীপ ভালোটিয়ারা জানান, সারা রাজ্যে এই ধরনের পোর্টালের কাজ শুরু অবশ্যই একটা নতুন পথ দেখাবে।