গাজোলে অনলাইন একক নাটক প্রতিযোগিতা

379

গাজোল: করোনা পরিস্থিতির জেরে মার্চ মাস থেকে বন্ধ হয়ে যায় বিনোদনমূলক সমস্ত ব্যবস্থা। স্বাভাবিকভাবেই এর আওতায় চলে আসে থিয়েটারও। বন্ধ হয়ে যায় নাটক নির্মাণ বা নাট্য প্রদর্শনীর কাজও। যার ফলে বিভিন্ন নাট্য সংস্থায় বন্ধ হয়ে যায় নাটক নির্মাণের জন্য মহড়ার কাজ।

কিছু কিছু নাট্য সংস্থায় দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো ভার্চুয়ালি শুরু হয় নাটকের মহড়ার কাজ। কিন্তু তাতে তৃপ্তি পাচ্ছিলেন না শিল্পীরা। এই অবস্থায় দাড়িয়ে নাট্য শিল্পীদের উৎসাহ যোগাতে কালচারাল লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন (পশ্চিমবঙ্গ) আয়োজন করেছিলেন অনলাইন একক নাটক প্রতিযোগিতা। দুটি বিভাগে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একটি বিভাগ ছিল ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত এবং আরেকটি বিভাগ ছিল সর্বসাধারণ। সর্বসাধারণ বিভাগে গাজোলের বিষাণ নাট্য সংস্থার ৫ জন অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে একজন তৃতীয় এবং আর একজন পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। করোনা পরিস্থিতির জন্য বড় করে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়ভাবে কৃতীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

- Advertisement -

তারই অঙ্গ হিসেবে শুক্রবার রাতে বিষাণ নাট্য সংস্থার মঞ্চে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুইজন কৃতীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিযোগিতার বিচারক এবং সংগঠনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশিষ্ট অভিনেতা গদাধর রায়, শ্যামলী ব্যানার্জি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক তথা উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তাপস মন্ডল। শ্যামলী ব্যানার্জীর উদ্বোধনী সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। কালচারাল লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন সম্পর্কে বক্তব্য পেশ করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। এরপর অনলাইন একক নাটক প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থানাধিকারী চন্দনা সরকার(শিকদার) এবং পঞ্চম স্থানাধিকারী জিনিয়া রায়ের হাতে ট্রফি এবং মানপত্র তুলে দেওয়া হয়।

একক নাটক প্রতিযোগিতার বিচারক তথা নাট্যপরিচালক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, করোনা পরিস্থিতির সময় নাট্যশিল্পীরা যখন মন মরা হয়ে বাড়িতে বসে ছিলেন সেই সময় কালচারাল লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন অনলাইন একক নাটক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। অগাস্ট মাসের ৭ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা চলে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের নাট্যশিল্পীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। চুলচেরা বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দুটি বিভাগ থেকে ৫ জন করে ১০ জনকে বেছে নেওয়া হয়। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার নাটক শিল্পীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। যাতায়াতের সমস্যার জন্য বড় করে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে পুরস্কার প্রাপকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এদিন বিষাণ নাট্য সংস্থার দুইজনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হল।

সংগঠনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য তাপস মন্ডল বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে শুধু নাটক নয়, গান, আবৃত্তি, প্রবন্ধ প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। গাজোল থেকে দুইজন শিল্পী পুরস্কার পেয়েছেন এদিন তাদের হাতে আমরা পুরস্কার তুলে দিলাম। যে সমস্ত প্রতিযোগিরা একক নাটক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছেন আগামী দিনে তাদের নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করার ইচ্ছে রয়েছে আমাদের। বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সকলকে উৎসাহ দিতে আগামী দিনে আমাদের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।‘