পরিস্রুত জল নেই উত্তর দিনাজপুরের ৭৩ শতাংশ গ্রামীণ এলাকায়

324

অরুণ ঝা, ইসলামপুর : উত্তর দিনাজপুর জেলার গ্রামীণ এলাকার মাত্র ২৭ শতাংশ এলাকাকে পরিস্রুত পানীয় জল পরিষেবার আওতায় আনা গিয়েছে। ২০১৮ সালে প্রায় ২০ শতাংশ গ্রামীণ এলাকা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ছিল। গত দুই বছরে এই এলাকা মাত্র সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর (পিএইচই) সূত্রে খবর, এখনও গোটা জেলার ৭৩ থেকে ৭৫ শতাংশ গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষ পরিস্রুত পানীয় জলের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পিএইচই প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার ১৫২টি মৌজাভিত্তিক নতুন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দাবি, প্রকল্পগুলি অনুমোদন পেলে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন।
উত্তর দিনাজপুর জেলার গ্রামীণ এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জল নিয়ে এই পরিস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে পিএইচইর ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ২০১৮ সালে এই জেলার গ্রামীণ এলাকার মাত্র ২০ শতাংশ এলাকা পরিস্রুত পানীয় জলপ্রকল্পের আওতায় ছিল গত দুই বছরে আমরা এই এলাকার পরিমাণ সাত শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। ইতিমধ্যে জেলার মৌজাভিত্তিক রিপোর্ট তৈরী করে ১৫২টি নতুন জলপ্রকল্পকে অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পগুলি অনুমোদন পেলে প্রতি প্রকল্পে গড়ে ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।
সার্বিক উন্নয়নের নিরিখে উত্তর দিনাজপুর জেলা আগাগোড়াই পিছিয়ে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গড় উন্নয়নের কাজ অনেকাংশে হলেও পরিস্রুত পানীয় জলের ইশ্যুতে জেলার সামগ্রিক চিত্রের বেহাল দশার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। গোটা রাজ্যের নিরিখে পরিস্রুত পানীয় জলের ইশ্যুতে উত্তর দিনাজপুরের চিত্র খুব একটা ভালো নয়। ফলে জেলার কালিয়াগঞ্জ, রায়গঞ্জ, ইটাহার, করণদিঘি, চাকুলিয়া, গোয়ালপোখর, ইসলামপুর ও চোপড়া ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় বিভিন্ন সময় জলবাহিত রোগের প্রকোপের বিষয়টি প্রায়ই খবরের শিরোনামে উঠে আসে। বাসিন্দাদের বক্তব্য, ভোট আসে ভোট যায়। বছরের পর বছর ধরে রাজনীতি চলে। কিন্তু জেলার গ্রামীণ এলাকার অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষ পরিস্রুত পানীয় জলের আওতায় না আসাটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এমনটা হলে বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগজনক বলে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জেলাজুড়ে এই বিষয়ে নজরদারি রাখা হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা: রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, ’পরিস্রুত পানীয় জল প্রত্যেকের মৌলিক অধিকার। সরকার এই মর্মে একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রতি তিনমাসে সমস্ত ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় জলের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে পিএইচই এই মর্মে জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে লিখিত রিপোর্ট দিলে কাজে আরও সুবিধা ও গতি আসবে।‘