বুল নমদাস নয়ারহাট : শিক্ষক ও পরিকাঠামোগত সমস্যায় জেরবার মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পুঁটিমারি স্টেট প্ল্যান আপার প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটিতে আছেন মাত্র একজন শিক্ষক। চারটি শ্রেণির জন্য ঘর মাত্র একটি। প্রশাসনিক উদাসীনতা ও অবহেলার কারণেই বিদ্যালয়টির এই হাল হয়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ। বিদ্যালয়ে এই দুরবস্থার বিষয়টি প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গোচরে আনা হলেও কোনো লাভ হয়নি। তবে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক ললিতচন্দ্র বর্মন জানান, বিদ্যালয়টিতে ২০১৫ সাল থেকে পঠনপাঠন শুরু হয়। প্রথম থেকে তিনিই এই বিদ্যালয়ে একমাত্র শিক্ষক পদে কাজ করছেন। স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটানো হয়নি। নিয়োগ করা হয়নি শিক্ষকও। তবে একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী যোগ দিয়েছেন। একজন মাত্র শিক্ষক থাকায় পঠনপাঠনের পাশাপাশি তাঁকে আনুষঙ্গিক একাধিক কাজ সামলাতে হচ্ছে। ফলে পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

একজন শিক্ষকের পক্ষে চারটি শ্রেণিতে কোনোভাবেই ঠিকঠাক পাঠদান করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন অভিভাবকদের একাংশ। চার শ্রেণি মিলিয়ে একটিমাত্র শ্রেণিকক্ষ থাকায় বাধ্য হয়ে একই চত্বরে থাকা অপর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষে পড়ুয়াদের বসানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নেই পাকা রান্নাঘর। টিনের চালা দেওয়া একটি ঘরে কোনোরকমে রান্নার কাজ করতে হচ্ছে। পানীয় জলের সমস্যাও রয়েছে। প্রাচীরও নেই। নেই খেলাধুলোর জন্য পর্যাপ্ত মাঠ। খেলার সরঞ্জামও নেই। নেইয়ের তালিকা এখানেই শেষ নয়। প্রয়োজনের তুলনায় নেই বসার বেঞ্চও। ফলে চটের বস্তায় বসতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও নেই বলে আক্ষেপ স্কুলের একমাত্র শিক্ষকের। এককথায়, প্রশাসনের নীরব বঞ্চনার সাক্ষী প্রত্যন্ত এলাকার এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।

ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, সমস্যাকে সঙ্গী করেই পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সমস্যার সমাধানে একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয় একটি ক্লাবের সম্পাদক সঞ্জয়কুমার বর্মন এ ব্যাপারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। পড়ুয়াদের স্বার্থে শাসকদলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এ ব্যাপারে তত্পরতা দেখানো উচিত বলে মনে করেন তিনি। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে স্কুলের অ্যাড হক কমিটির সম্পাদক তথা মাথাভাঙ্গা ৩ নম্বর সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মতিউর রহমান জানান, সমস্যার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। শীঘ্রই শিক্ষক সমস্যা মিটে যাবে বলে তাঁর আশা। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের গোচরে আনার আশ্বাস দিয়েছেন বিডিও সম্বল ঝা-ও। পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি মজিরুল হোসেন স্কুলের পরিকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।