আঙুলদেখা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হিমসিম খাচ্ছেন ২ চিকিৎসক

317

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি : হলদিবাড়ির বক্সীগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের আঙুলদেখা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে রোজ গড়ে প্রায় ১৫০ রোগীর ভিড় হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাবে এখানে পরিসেবায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। একজন অ্যালোপ্যাথ ও একজন হোমিয়োপ্যাথ মিলে এখানে কোনোক্রমে পরিসেবা দিয়ে চলেছেন। অন্তঃস্বত্ত্বাদের জন্য এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ছয় শয্যার একটি অন্তর্বিভাগ রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে সেটি কোনো কাজেই আসছে না। হলদিবাড়ির বিএমওএইচ ডাঃ তাপসকুমার দাস বলেন, হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসকের সমস্যা রয়েছে। এজন্য আঙুলদেখা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একজন চিকিৎসককে সেখানে পাঠানো হয়েছে। কোচবিহারের ডেপুটি সিএমএইচ-১ ডাঃ বিশ্বজিত্ রায় সম্প্রতি হলদিবাড়িতে এলে চিকিৎসকদের ঘাটতির বিষযটি তাঁকে জানানো হয়। বিশ্বজিত্ বাবু বলেন, চিকিৎসক সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে।

আঙুলদেখা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির উপর এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের পাশাপাশি সংলগ্ন পারমেখলিগঞ্জ, বক্সীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ নির্ভর করেন। আঙুলদেখা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় বাসিন্দাদের প্রায়ই ৫ কিলোমিটার দূরের হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে বা ৩০ কিলোমিটার দূরে থাকা জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এর জেরে সময় তো বেশি লাগছেই, তুলনামূলকভাবে বেশি খরচও হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে দুজন অ্যালোপ্যাথ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র একজনই রয়েছেন। এছাড়া একজন হোমিয়োপ্যাথ ও একজন ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। পাঁচজন নার্সিং স্টাফের জাযগায় মাত্র দুজন রয়েছেন। পাঁচজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী থাকার কথা থাকলেও চারজন আছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে পরিস্রুত পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সবারই খুবই সমস্যা হয়।

- Advertisement -

বিজেপির স্থানীয় যুব নেতা ভূষণ রায় বলেন, দুবছর আগেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে দুজন স্থায়ী চিকিৎসক ছিলেন। তাঁদের একজনকে হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর এখানে অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য অন্তর্বিভাগটি বন্ধ হয়ে যায়। পড়ে থেকে থেকে বিভাগটির শয্যা সহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এলাকায় উপযুক্ত পরিকাঠামো সহ একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও বাসিন্দারা সুষ্ঠু চিকিৎসা পরিসেবা পাচ্ছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা সূর্য দেবনাথ বলেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে এই সমস্যা চলছে।

খুব প্রযোজন না পড়লে কেউই এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে যেতে চান না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির চিকিৎসক সুখনাথ কুণ্ডুর কথায়, প্রতিদিন গড়ে এখানে প্রায় ১৫০ রোগী আসেন। এই সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা পরিসেবা দিতে আমাদের রীতিমতো নাকানিচোবানি খেতে হয়। অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য অন্তর্বিভাগটি বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের সমস্যা হচ্ছে। হলদিবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মজিবর রহমান বলেন, এখানে চিকিৎসকের সংকট সংক্রান্ত সমস্যার বিষযটি যথাস্থানে জানিয়েছি। সমস্যা মেটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সমস্যা মেটাতে তিনি স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে কথা বলবেন বলে স্থানীয বিধাযক অর্ঘ্য রাযপ্রধান জানিয়েছেন।